December 29, 2018

ও নদীরে তুই যাস কোথারে

দেশে নির্বাচনের বাতাস বইছে। শীতল আবহাওয়ায়ও বড্ড গরম। বিভিন্ন দিকে চলছে পক্ষবিপক্ষের লড়াই। লড়াই দেখতে দেখতে যদিও আমরা সবাই একরকম অভ্যস্ত হয়ে গেছি তবুও মনে হয় লড়াই না হলেই ভাল হয়। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই। আগে আমরা বলতাম পানির অপর নাম জীবন আর এখন বলি বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন (সুপেয়ও বলতে পারি)। পানি নিয়ে কর্পোরেট এডভার্টাইজ কোম্পানি গুলোও এখন থেমে নেই। পিউরিট সহ অন্যান্য কোম্পানি চটকদার বিজ্ঞাপনে বেচে যাচ্ছে পানি বিশুদ্ধকরন কিট। সাথে পাম্প কোম্পানি গুলোও আছে। পানি নিয়ে ভাবনা আর না আর না। আসলেই কি তাই। আমাদের সামনে পানি নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে মনে হয়
বইয়ে আমরা নিত্য পড়ি "নদী মাতৃক দেশ আমাদের বাংলাদেশ"। কথাটা সত্যি। কিন্তু ২০০+ নদী ও নদ বাংলাদেশকে এফোঁড় ওফোঁড় করে চলে গেছে সাগরের দিকে। কিন্তু কটার খেয়াল রাখছি আমরা। প্রতীটি নদীর এখন করুন অবস্থা বানাচ্ছি। ঘরের ময়লার ব্যাগ থেকে শুরু করে সব কিছুই আমরা ফেলছি নদিতেই। ঢাকা সহ বিভিন্ন শহর গড়ে উঠেছিল নদী কেন্দ্রিক। এক সময় গল্প শুনতাম শীতলক্ষ্যায় পয়সা ফেলে ডুব সাঁতার দিয়ে তা আবার খুঁজে আনা যায়। পরিষ্কার পানির কথা চিন্তা করেই শহর কতৃপক্ষ শীতলক্ষ্যা থেকে পানি আনা শুরু করে সুপেয় পানির উৎস হিসেবেই। বাংলাদেশে আমরা সারফেসের পানির বদলে বেশির ভাগই ব্যাবহার করি ভু-অভ্যন্তরীণ পানি। কিন্তু কতদিন এভাবে চলবে?
নদীগুলো মরছে। একবার একটা ইটিপির ডিসাইন ফেজে গিয়ে দেখার পর মনে হল ফ্যাক্টরির লোড অনুসারে কাজ হবে না তখন রিকমান্ডেশনে তা লেখার পর জনৈক মালিক পক্ষ আমায় একটু খারাপ ভাবেই বললেন সরকারের ব্যাপারে আপনাদের কিছু রিকমান্ডেশন নাই? তারা যে তাদের সব ময়লা নদিতে ফেলে তাদের কিছু না বলে কেন আমাদের ইনভেস্টমেন্ট বাড়াচ্ছেন? সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকও ছিল। তাঁরাও কিছু বলেনি।

বহুদিন (এক সিনিয়রের ডেটা কালেকশনে সাহায্য করতে প্রথম যাই সেখানে) পর বুড়িগঙ্গার একটা শাখার খোজ নিতে কামরাঙ্গীর চরের দিকে গিয়ে যা দেখলাম তাইতে আমি কিছু ভাবার অবকাশ পাইনি। অনেক খুঁজেও নদীর অংশটা পাইনি সেদিন। বছর আটেক আগের সেই শাখাটা নাই হয়ে গেছে অনেকটাই। এখন সেটা শুকনো।আটকে পড়া পচে যাওয়া পানির গন্ধে টেকা দায় ছিল তখন। একরকম পালিয়েছিলাম।
আমাদের নদীগুলো ঠিক এমনি হারাচ্ছে। হারাচ্ছে আমার ঘাঘট কিম্বা পুনর্ভবা। এখন নদীগুলো হাড় জিরজিরে অবস্থায় ধুকছে। আমরা কি পারিনা এদের রক্ষা করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে লার্জ স্কেল বেসিনের মত কিছু করতে?

ছবির সময়কাল জুন ২০০৮ আর তোলা হয়েছিল বসিলা থেকে
জুন ২০০৮
Saifsohel Photography

December 19, 2018

ডায়েরীর পাতা থেকে


ও গানওয়ালা আরেকটা গান গাও

আমার আর কোথাও যাবার নেই
কিচ্ছু করার নেই।
ছেলেবেলার সেই বেহালা বাজানো লোকটা
চলে গেছে বেহালা নিয়ে
চলে গেছে গান শুনিয়ে।

অনেকদিন মনে হচ্ছে বেহালাটা নিয়ে না গেলে হয়তো আমি নিজেও গাইতাম। সেদিন বন্ধু সোহেল  আর হাসান ভাইকে নিয়ে হুট বের হলাম ওয়াল মার্টে যাব টুকিটাকি জিনিশ কিনতে। রুপা গাঙ্গুলির গাওয়া একটা রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতে শুনতে। ঠিক শুনতে বলবোনা গিলতে গিলতে বলবো বুঝছিনা। বহুদিনের পুরাণ অভ্যেস একটা গান পেয়েবসলে সেটা সারাদিন মাথায় ঘুরে। তেমন হচ্ছিল সেদিন। হাসান ভাই বলেই বসলেন আজ তুমি নিজের মাঝে নেই। কিছুটা স্ক্যাটার্ড।  ঠিক তেমনি আজও তেমনি আরেকটা গান শুনছিলাম রবিবাবুর। বরাবরের মতনই মনে হচ্ছিল এ যেন আমার নিজের জন্যই লেখা। আসলে কি! ওপরের সুমনের গাঁতা শুনলে মনে হয় আমি মার্কিন রং বেরঙের রাস্তায় ঘুরে বেড়াবার জন্যই কি জন্মেছি। আমার রক্তে বাংলার তরল লাল সবুজ রক্ত। ওটা ছুটির দিনে গ্রামের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর রক্ত। সেটা শনিরবি বার বাসার পেস্ট কন্ট্রোল করার জন্যই ক? পাহাড় জংগলে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। কাজের জন্য এখানেও বনে জংগলে ঘুরে বেড়াই কিন্তু ঠিক কেমন যেন নিজের মনে হয় না। ঠিক আপন নয়। একদিন এক বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল তুমিতো দেশে ভালই ছিলে কেন গেলে? উত্তর দিতে পারিনি। 

গ্রাজুয়েশনের পর কিছুদিন বেকার ছিলাম। ঠিক বেকার বলবো কি? ওয়েডীং ফটোগ্রাফি করি। তাও মনের মর্জি মতন। ভাল লাগে ছবি তুলতে আর পকেট খরচ আসে ওই ওয়েডীং এর টাকাথেকে। পাশা পাশী অবশ্য পাগলের মতন ছবি তুলে বেড়াই আর চাকুরীর ইন্টার্ভিউ দেই। যখনি ভাবি এইবার কিছু না হলে ঠিক পালাবো! কোথাও না কোথাও হয় পড়তে নয় বাউন্ডুলের মতন ঘুরে বেড়াতে ঠিক তখনি নয়টা পাঁচটার ব্যাংকে ঢুকে পড়া! আর আবার পাশাপাশি ছাত্র হিসেবে ফেরত যাওয়া! 

ঠিক তখনি মনে হয় বেহালা ওয়ালা হারিয়ে গেছে কোথাও। সে আর ফেরেনি। বেহালা ওয়ালারা আর ফেরেনা। নির্লিপ্তরো আর বাউণ্ডূলে হওয়া হয় না আর। পথে পথে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যায় সেই নয়টা পাঁচটার কোলাহলে বন্দি হয়ে। 

December 15, 2018

এবং ৭১

একটা দেশের ইথনিক ক্লিঞ্জিং নিয়ে আমরা খুব সচেতন।তাদের প্রথমে যখন বাংলদেশে ঢুকতে দিচ্ছিল না তখনো সোচ্চার ছিল কিন্তু আবার ঢুকতে দেয়ায় সেই লোকেরাই আবার এর বিরোধিতা করতে লাগলো। আমি সবসময় ইথনিক/যেকোন ক্লিঞ্জিং এর বিরুদ্ধে।
কিন্তু আমাদের একটা বড় ধরনের ব্রেইন ক্লিঞ্জিং করে গেল পাকিস্তান ও তার বাংলাদেশে থাকা দোসররা।যাতে সদ্য স্বাধীন একটা দেশ আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আসলেই একটা দেশ মাথা তুলতে বহু কষ্ট হয়েছে। কিছু আবার এই হত্যাকাণ্ডের পক্ষে মিনমিন করে সাফাই গাওয়ার চেষ্টাও করে। দীর্ঘ ৪৭ বছর হয়ে গেল দোসরদের জারজের সংখ্যা বেড়েছেই। সাথে তাদের দোসরদের লবিস্টরাতো রয়ে গেছে দেশের ভেতর বা বাহিরে। মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই এই দেশ।
দেখবেন বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস নিয়ে আমরা বিভিন্ন মত প্রকাশ করছি, ভাল। যাই হউক না কেন ওই বোকা আর আবেগপ্রবণ লোক গুলার জন্যই আমি আপনি সবুজের মাঝে লাল বৃত্যের পতাকাটা পেয়েছিলাম। সবুজ রঙ্গা পাস্পোর্ট/পরিচয়পত্র ব্যবহার করছি। ওদের রাষ্ট্রের মত করে ফুল দিয়ে সম্মাননা জানাক। আর আপনার ভাল না লাগলে আপনে নামাজ পড়েন বা অন্য ধর্মের হইলে আপনার ধর্মানুযায়ী তাদের জন্য প্রার্থনা করুন।
ভাইরে এমন খোঁচাইয়া ধর্মকর্ম বা দেশরে ভাল বাসা হয় কেমনে!!!

December 12, 2018

ডায়েরীর পাতা থেকে

সকাল সকাল এসে বনের গন্ধের মাদকতায় বুদ হচ্ছি। হঠাত দুজোড়া চোখের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। বহুদিনের চেনা মিনে হলো। ওদিকেও কি তাই? এ দেখে কবি হলে দু লাইন লিখে ফেলতাম বোধ হয়। আজই আবার বুঝলাম হরিনীদের নিয়ে এত কবিতা চর্চা কেন হয়! বিদ্যুৎ কোম্পানির রাস্তা থেকে একটু জংগলের দিকে ঘুরতেই দে ছুট। আর পেলাম না। একটা রেড এডভ্যান্ট নাচছে আর গাইছে। দুটো চড়ুই গোত্রের পাখিও দেখলাম। ওদের পরিচয় বের করতে হবে! 

একটা কপার হেডের বাচ্চা দেখলাম। ঝিম মেরে পড়ে আছে। আরেকটু হলে দিয়েছিলাম পা ওর লেজেই। তবে আর দেখতে হতো না। এই এলাকার বিষাক্ত সাপগুলোর একটা। মাঝে মাঝে ক্যামেরা হাতে না থাকলে ভালই লাগে। একটা মকিং বার্ড কিছুক্ষণ গান শোনালো। উপরে শকুনদের প্রাতঃকালীন মহড়া চলছে। এই এলাকায় রাঞ্চ থাকায় মনে হয় শকুনের পরিমাণ বেশি। আজ একটা দেশি কাক দেখলাম। খুব সহজে ওদের দেখা পাওয়া যায় না যদিও।

এই যায়গাটায় একটা ৩০ হাজার একরের ডীটেনশন বেসিন হবে। যে কোনদিন কাজ শুরু হবে। তখন বড়বড় ডোজারের কাছে পরাজয় মানবে এসব পাখি বা গাছ গাছালীরা। তখন অন্যকেউ আসবে সেখানে। হয়তো জলচর  কেউ! কিন্তু এমন বিস্তির্ন সবুজ হারাবে! আর্টিফিশিয়াল পার্ক হবে। লেক হবে কিন্তু তখন কি এসব হরিনহরিনীদের সাথে চোখাচুখি হবে বা আমরা কেউ লুকিয়ে চুরিয়ে চোখ রাখবো আরেকজনের উপর? এটাও একধরনের প্রেম নয়কি? 

December 05, 2018

ফ্যাপ ও অন্যান্য

দুটো শকুনকে দেখছি কদিন এখানে। একটা পোলের উপর বসে থাকে। আজ দেখলাম একটা মারা গেছে। কিভাবে তা জানিনা। অন্য শকুনটা উপর থেকে চেয়ে আছে সংগীর দিকে। মাঝে মাঝে ঝাঁক এসেও সান্তনা দেয়।

গত কদিন যেখানে কাজ করছি এখানে একটা ডিটেনশন পন্ড হবে। বন্যা থেকে শহরকে বাচানোর জন্য। বিশাল এলাকা জুড়ে কর্মযজ্ঞ শুরু হবে আমাদের কাজ শেষে। শহরটার হুট বৃষ্টির সাময়িক জল গুলো আধার পাবে ক্ষনিকের জন্য। ডোবাবেনা আর হিউস্টন/গ্রেটার হিউস্টনকে।

ঢাকা রক্ষার জন্য ফ্যাপ নামক একটা কি যেন করেছিল রাজউক? কেই বলতে পারবেন তার কি অবস্থা? মধুমতি, আমিনমোহাম্মদ,  নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো ইত্যাদি অনেক শহর গড়ে উঠছে  ফ্যাপ আওতায় পড়া জায়গায়। এমন কি খোদ বসুন্ধরা বা যমুনাও আছে সেই যায়গায়! ৮৮/৯৮ এর মত বড় বন্যা হলে ঢাকার পানি কোথায় যাবে?

যা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেখানেই  ফিরে যাই। আদার ব্যাপারি জাহাজের খবর না জানলেও  চলবে! কেউ কি জানেন শকুন কি শকুনের মাংস খায়? 

December 03, 2018

আমার বাবা স্কুল শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে সম্মান করতো আবার ভয় পেত তাঁর রাগের কারণে। তাঁকে দেখতাম যেমন শাসন করতো তেমনি আদরও করতো। এখনো তাঁর ছাত্রছাত্রীদের দেখি তাঁকে দেখলে কেমন পাগলের মত ভাল বাসে।আমার পরিবারে অনেক শিক্ষক। গিন্নি নিজেও শিক্ষক হওয়ায় এখানকার সাথে আমার ছোট বেলার শিক্ষদের ব্যাবহার মেলাই। তখন দেখি আমার ছোট বেলায় পেয়েছিলাম শ্রেষ্ঠ কিছু মানুষকে শিক্ষক হিসেবে।

সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর প্রথম যে কাজটা এখন করা হয় তা হলো মুঠোফোনে পৃথিবী ভ্রমণ। খবরের কাগজের সাইট গুলোতে ঘুরেবেড়ানো পুরনো অভ্যেস সাথে মুখবইয়েও চোখ বুলানো। আজ সকালে দেখতে গিয়ে থমকে গেছিলাম একটা খবরে। একটা আত্মহত্যার খবরে। যে বয়েসে স্বপ্ন দেখার কথা, যখন সে ভাববে কোথায় ঘুরে বেড়াবে বার্ষিক পরীক্ষার পর ঠিক সে সময় মেয়েটা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজের জীবন দিয়ে দেয়। কেন এমন হবে? কিছুদিন আগে একবার লিখেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রস্টেশন থেকে আত্মহত্যার কথা! কিন্তু এই মেয়েতো সেসব নিয়ে ভাবার বয়েসই হয়নি।

আর আমার শিক্ষকরা কেউ আমার সম্পর্কে কিছু কমপ্লেন আমাদের সামনে বসিয়ে করতেন না কখনোই। প্রতিটা শিক্ষকই একজন পিতা বা গার্ডিয়ান। আর তাঁর বাচ্চাদের শেখার অনেকাংশ কিন্তু তাঁর স্কুল থেকেই শেখে! তাই বলে আরেকজন গার্ডীয়ানকে কি করে অপমান করছেন আপনি? এর মাধ্যমে আমরা কি হত্যা করেছি মেয়েটাকে?
আমাদের মনে হয় শিক্ষাব্যাবস্থা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে এখন?

November 25, 2018

হেচকি এবং


কিছুদিন আগে হেঁচকি নামে একটা সিনেমা দেখেছিলাম। হিন্দি সিনেমা দেখা আমার সময় কাটানোর জন্য। কিন্তু এই সিনেমা মনে করিয়ে দেয় অনেক কিছু। ছোটবেলার কথা। ছোটবেলায় কথা বলতে প্রচণ্ডহারে মাম্বলিং করতাম। সেই নিয়ে প্রচুর বুলিং হতো। বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে। আবৃত্তি শেখার চেষ্টাটা সেখান থেকেই। অনেকবার শুনতে হয়েছিল তুই পুকুর পাড়ে গিয়ে একা একা কথা বলে শিখে আসবি কি বলতে হবে। ছোটবেলায় একটা বাচ্চা কথা বলছেনা কোথাও! বুলিং এর জন্য। আজ আমরা বিভিন্ন কথা বলতে গিয়ে শুনছিলাম বুলিং সম্পর্কে। সেটাও টেনে নিয়ে গেল সেই ছোটবেলায়। এখনো হুঠাট শুনতে হয় তেমন বুলিং। কিছুদিন আগেই শুনেছিলাম এক বন্ধুর কাছ থেকে একটা শব্দ "গাঁইয়া"। এমন অনেক শব্দ আমাদের মাঝে ফ্রাস্টেশন এনে দেয়। কেউ এ থেকে বের হতে পারেন কেউ পারেন না।
মূল প্রসঙ্গে আসি... ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিনের মাঝে ৮ জন আত্মহত্যা করেছে। এর পেছনে কারণ কি আমরা কি কখনো ভেবেছি? সবাই পত্রিকার খবর দেখেই শেষ। কেন এমন ক্লান্তি এসে যায় জীবনের প্রতি। তারা সমাজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। এদের কি আমরা মোটিভেট করার চেষ্টা করেছি। তাঁদের ডিপ্রেশন কেন? আসলেই এসব নিয়ে চিন্তার সময় এসেছে বোধহয়। এসব ক্লান্তি মনে হয় দূর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতি ও আমাদের সামাজিক ব্যাবস্থাকে কিছুটা হলেও বদলানোর সময় হয়েছে। এভাবে আর কত হারাবো আমাদের তরুণ সমাজকে...

October 15, 2018

আজ বারীষ নেমেছে বড্ড। ক্যাম্পাস ছাড়ার পর খুব একটা আনন্দ লাগেনা বৃষ্টি মহাশয়াকে দেখতে। বৃষ্টি মানে  ক্লাসে যাবনা। সারাদিন শুয়ে  বই পড়বো। আর পাশের শব্দযন্ত্রে বাজবে গান। বহুদিন এমন হয়না। শহুরে বৃষ্টিতে মজার চাইতে ভওগান্তি বেশি। তা ঢাকা হউক আর মার্কিনীদের আধুনিক শহর। সব একই। তবে কিছুটা পার্থক্য মনে হয় আছে।


 প্রথম আসার পর ম্যাসাচুসেট্সএ একবার খুব ইচ্ছে হলো ভিজি! বৃষ্টির মাঝে নামার পরই মনে হলো এই আমাদের প্রিয়তমা বৃষ্টি নয়। এ যেন বরফের কুচি ছিটাচ্ছে। কি ঠান্ডারে বাবা। পরে আর সেই চেস্টা করিনি! কিন্তু টেক্সাসের বৃষ্টিতে কয়েকবার ভিজেছি আর তা কান্ট্রিসাইডে।  আহা... মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশকে।

আমার পড়ালেখা যে বিশ্ববিদ্যালয়েতা আসলেই প্রকৃতির রোমান্টিকতায় ভরপুর। আওনি কাঠখোট্টাহলেও ক্যাম্পাসে গেলে আমুল বদলাবেন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এলে কে না বদলায়। একবার ব্যাংকের কাজ আর পড়ালেখা মিলিয়ে দীর্ঘ ৩ মাস যেতে পারিনি। মনে হয়েছিল হাজার বছর যাইনি। 


যাই হউক শুরু করেছিলাম এক উদ্দেশ্যে বার বার বিচ্যুতি ঘটছে। ক্যাম্পাসে থাকার সময় আমার রুমে প্রচুর বই ছিল আর রুমমেটো ছিল পড়ুয়া(টেক্সট নয়  কিন্তু)। তাই দুজনে এখনো কথা হলে জাবর কাটি সেসব দিনের। সেই অভ্যেস গুলো হারিয়ে গেছে। কিছুটা জুকারবার্গের কল্যানেই বলতে হয়। ছয় মাস হলো ৫ টা বই এসেছে দেশ থেকে। পড়া শেষ হয়েছে মাত্র ১ টা। আরো দুইটা আসছে! 

এদিকে ঠান্ডা নেমেছে যে ফিল্ডে বসে খিচুড়ি আর  ইলিশ কই পাই...দুধের স্বাদ ঘোল(কফি) দিয়ে ঠান্ডা দূর করতে গেলাম তাও এমন কফি পেলাম হাতের কাছে যা কুইনাইনের মতই গিলছি ;(

February 21, 2017

২১ এবং ...



"ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিবার চায়" আর সাথে আমরা আমাদের ভাগ্যের কথা ভাবছিলাম। সালাম, বরকত, রফিকরা প্রাণ দিল কি শুধু শুধু? অনেকে আতেল বা অন্য অনেক গালি দিয়ে দিবেন তা জানি তথাপি লিখছি। 


মাঝে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ব্যানারে ৭ বীরশ্রেষ্ঠ এর ছবি দিয়ে একুশের ব্যানার করেছে দেখলাম। শিক্ষায় আমরা কতটা নিচে নামছি তার প্রমাণস্বরূপ হয়তো এ ছবিকে ভেবেনিতে পারি।


তারপর দেখলাম সংবাদ পত্রও একই কাজ করল। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস আর তারা ছেপে দিল স্বাধীনতা দিবস হিসেবে।







সেদিন একটা ছবি দেখছিলাম একুশের সাজ শিরোনামে একটা ছবি দেখছিলাম। (যে ছবিটা এই লেখার প্রচ্ছদ ছবি হিসেবে দিয়েছি) ছবিটার কোন মিল খুঁজে পেলাম না একুশের সাথে। এটি সঙ ছাড়া অন্য কিছু মনে হয়নি। কেন এই পরিহাস? 


তারপর দেখলাম ডি জে পার্টিরও আয়োজন শ্রদ্ধা জানানোর জন্য 


কেউ কেউ দেখলাম আবার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বা ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদরা দিনটা কিভাবে এসেছে বা কেন তাই জানে না দেখলাম। 



আমেরিকার টেক্সাসে আছি ২ বছরের একটু বেশী সময়। কাজের সূত্রে হিস্পানিক লোকজনের সাথে মিশতে হয়। খুব কম সময় দেখেছি দুজন হিস্প্যানিক কথা বলছে ইংরেজিতে। তারা বাধ্য না হলে ইংরেজিতে কথা বলে না। আর আমারা নিজেদের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে দেখি ইংরেজিতে আর সেখানেই দেখি একজন সাদা চামড়ার ভদ্রমহিলা উপদেশ দেন বাংলায় যেন আমরা আমাদের বাচ্চাদের বাংলা শেখাই। তাতেও আমাদের লজ্জা হয় না। চোখে ফিল্টার লাগিয়ে নিয়েছি।


"সইমু না আর সইমু না, অন্য কথা কইমু না যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান, আহা যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান, এই জানের বদল রাখুম রে ভাই, বাব-দাদার জবানের মান ও হো..হো..হো….বাব-দাদার জবানের মান" 







November 30, 2016

কয়লা কথন ১

কয়লাকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভবিষ্যৎ জ্বালানী হিসেবে ভাবছি আমরা। যদিও আমরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার এর অধিকারী হতে যাচ্ছি শীঘ্রই তথাপি এটি আমাদের মত জনবহুল দেশের জন্য কতদূর লাভ জনক তাও ভাবার সময় এখনো ফুরিয়ে যায় নাই। রামপাল, মহেশখালী, বাশখালী ছাড়াও বড়পুকুরিয়া বা নতুন হাতে নেয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পকল্প সমূহের জন্য লাগবে পর্যাপ্ত কাচা মাল। যা অস্ট্রেলিয়া/ভারত হতে আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন কি তা চায়না হতেও হতে পারে। আমোদের যে ছয়টি কয়লার রিসার্ভ রয়েছে তা নিয়েও ভাবার সময় হয়েছে বলা যায়। বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে স্বল্পাকারে উত্তোলন হলেও অন্যান্য গুলো নিয়ে রয়েছে অনেক সমস্যা।



বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জায়গা নির্ধারন নিয়ে কিছু কথা রয়ে গেছে। আমরা পরিবহন খরচ বাঁচাতে কয়লা খনির পাশেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করি। আর এর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভূ-অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবহার করছি। যার ঋনাত্বক প্রভাব  দেখছে এখনি।  ভু অভ্যন্তরীণ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। অথচ বর্তমান স্থান থেকে মাত্র ৬ কিলো মিটার দূরত্বে নদী রয়েছে। আবার বর্তমানে ঠিক একই যায়গায় আমরা এর তৃতীয় ইউনিট এর নির্মান কাজ করছি। 
এতে আরও পানি আমারা উত্তোলন করবো আর সাথে আমাদের ভূ-অভ্যন্তরের পানির পরিমাণ  কমতে থাকবে। কারণ এতে একুইফার সিস্টেম ধ্বংস হবে। যা একে ওপরের সাথে নির্ভরশীল। কৃষি নির্ভর এই এলাকাটা জলশূন্য হয়ে যাবে। তাতে বিদ্যুৎ ছাড়া আম্যাদের আর  খুব বেশি কিছু থাকবে না। তখন শুধু বিদ্যুৎ কি সেই জলের শূন্যতা পূরণ করতে পারবে? 

November 15, 2015

আবেগের বেগ ও আমরা

আমাদের বাংলাদেশিরা একটু বেশই আবেগ প্রবণ। সাথে একটু হুজুগে পাগলও। আমি কি করে বাদ যাই। ২০১২ সালে যখন ব্লগাররা যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসির দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন তখন প্রথম ২ দিন বেশির ভাগ লোক এতে সাপোর্ট দিচ্ছিলেন। কিন্তু সাথে যখন ধর্মীয় লেবাস দিয়ে দেয়া হল তখন সবাই আমরা সরে আসলাম। আর বললাম সরকারী খিচুড়ী/বিরিয়ানি বিদায় নিয়েছে তাই সব ভেগেছে।
সাথে সাথে হেফাজত যখন ঘাটি গাড়ল আমরা সবাই ধর্মের ভয়ে নড়ার চূড়ান্ত করলাম। দেশের অর্থনৈতিক হেডকোয়ার্টার ছিল মতিঝিল এলাকা। সেখানে তাঁরা অবস্থানের সাথে ভাংচুর চালালেন তাতে খুব একটা দোষ হচ্ছিল না কারণ তাঁরা ধর্ম যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন। পরে রাতে ৫০০০-১০০০০  লোকের মৃত্যর খবর দিয়ে আবার অস্থিরতার চেষ্টা শুরু করলেন। তখনো আমরা খুব একটা কিছু বল্লামনা কারণ তাঁরা ধর্মের নামে যুদ্ধ করছে। এর আগে বাঙলা ভাই যখন শুরু হয় তখনো একই ভাবে সমর্থন দিচ্ছিলেন। 

আমরা এখনও ওদের সাফাই গাই। আরবিতে লিখে রাস্তাঘাটে মূত্রত্যগ বন্ধ করতে হয়। কারন কিছু বুঝি আর না বুঝি আরবি আমাদের ধর্মীয় ভাষা। আমাদের প্রধান আর একমাত্র  দেশপ্রেম হচ্ছে মুরগীর সাথে। মুরগীর কেনার সময় একমাত্র আমরা ভাবি দেশি মুর্গীরকথা। অন্যসব ভারতীয় পাখি দ্রেস বা পাকিস্তানি লন! হাস্যকর!

আমার লেখাটার শুরুটা ফেসবুকে অনেকেই প্রোফাইল ছবি পালটেছেন ফ্রান্সের গণহত্যায় নিহতদের শোক জানানোর জন্য। আর তার সাথে কিছু লোক শুরু করেছেন আপনি ফ্রান্সকে সমবেদনা জানিয়েছেন! কিন্তু ক্যান লেবানন বা কেনিয়া অথবা নরওয়েকে জানান নাই! আসলেই হাস্যকর আমরা নিজেরা অন্যের সমালোচনায় ওস্তাদ কিন্তু নিজের! জারাই সমবেদনা জানিয়েছেন তারা বাকিগুলোকে বলেন নাই এখন অন্তত বলছেন এটা অন্যেয়। এই লোকগুলি সিরিয়ার একটি বাচ্চার ছবিও শেয়ার করেছেন। সিরিয়া, ইরাক, লেবানন বা আফগানিস্তান সব দেশে অন্যায়ভাবে আগ্রাসন হচ্ছে। আর তা হচ্ছে মুসলমানদের একসাথে চলতে না পারার জন্যে। ও আইসি নামক প্রতিষ্ঠান মুসলিম দেশের প্রতিনিধিত্ব না করে তাঁরা সিরিয়ায় হামলার জন্য ইসরাইলকে অনুরোধ করে তখন বা সৌদিআরব যখন ইয়েমেনে হামলা করে তখন কটি মুসলমান দেশ প্রতিবাদ করেছে? 

তারপর বংগদেশে যখন চাপাতি সন্ত্রাস চালায় তখন আমরা কজন প্রতিবাদ করি! করিনা বরং সমালোচনার ঝড় তুলি। যাকে হত্যা করা হয়েছে তার রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজি। তিনি কোন দল করতেন তা ব্যের করার চেষ্টা করি আর তার চৌদ্দগুষ্ঠি না পারি তাকে উদ্ধার করে ছেড়ে দেই। আর হাস্যকর যুক্তি দেখাতে থাকি। এতে কি পরিবর্তণ করছি? 

নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...