February 16, 2012

ও নদীরে তুই যাস কোথারে ৩

২০০৭ সালে আমার মাষ্টার্স এর একটা কোর্স এর মাঠ কর্ম করতে যাই ইছাপুর এলাকায়। মাঝে কবছর ইছাপুর ব্রীজ পার হয়ে আর যাওয়া হয় নাই। কিন্তু ২০১১ এ গিয়ে দেখি এলাকাটা পুরোটাই পাল্টেগেছে। খিলক্ষেত থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে একসময় বালু নদীর শাখা এবং কিছু খাল আর ডুমনী বিল ছিল। আজ তা আমরা দেখি হাউজিং কোম্পানির বিজ্ঞাপনে। ঢাকা হতে মাত্র ৫ মিনিটের পথ বা নতুন ঢাকা পুর্বাচল আর ঢাকার মাঝে এমন বিজ্ঞাপনী ভাষা। কিন্তু  আমাদের জন্য ভাল কিছু তৈরি হচ্ছে কি আদৌ?

 ছবিঃ দূরে বসুন্ধরা আবাসিক এর Exclusive শহর। 


ছবিঃ বসুন্ধরা আবাসিক এর ভরাট করা যায়গা যা আগে খাল ছিল। 



আমি অনেকদিন যাবত যাই এই এলাকায়। ছাত্রথাকা কালীন গিয়ছি মাঠকর্মের জন্য। তা ছাড়া এদিক দিয়ে রুপগঞ্জ যাওয়া সহজ হওয়ায় এপথ নিয়েছি বিভিন্ন সময়। তাছাড়া নেশার(ছবিতোলা) টানেও গেছি বহুবার। দেখেছি এর পরিবর্তন। বর্ষায় গেলে দেখতাম দুকুল ছাপিয়ে পানি আর নৌ্কায় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, শীতকালে সবজির চাষাবাদ । কিন্তু আজ গেলে দেখা যায় ধুধু বালিচর।




আমার পরিচিত এক সময়ের কৃষক পরিবারের সদস্য সুখচান্দ। এখন পুরো দস্তুর দর্জি। তার জমিনের কিছু অংশ এখন বসুন্ধরা আবাসিক। কিছু পিঙ্ক সিটি জেনোভ্যালী। আর কিছুটা পড়েছে সানভ্যালী নামক আবাসন এলাকায়। বাধ্য হয়ে বিক্রি করেছেন বাপদাদার সুত্রে পাওয়া এই সব জমি। সুখচান্দ কী সুখে আছেন? সেদিন দেখা হলে জিজ্ঞাসা ছিল তার কাছে। কিছু সম বাহিরে তাকিয়ে থেকে উত্তর দিলেন আজ আর নিজের ক্ষেতের ধানের চাল খেতে পাইনা। মাছ ও কিনে খাওয়া লাগে। জমিন বেচে টাকা পাইসি কিন্তু শান্তি ত হারায়ে গেছে!এখন ভেজাল ছাড়া খাইতে পারিনা। টাটকা শবজী নাই। মাছ নাই বিলে। বিল ই তো নাই। এক নিঃশাসে কথা শেষ করলেন।





February 10, 2012

ও নদীরে তুই যাস কোথা রে-২



বসিলা ও চর ওয়াশপুর কে ভাগ করেছে বুড়িগঙ্গা। বেশিদিন হয়নাই এখানে একটা সেতু নির্মিত হয়েছে। আর সেতুর সাথে সাথে কিছু লোকের ভাগ্য খুলেছে। কিছু লোক জীবিকা হারিয়েছে। কেউবা হারিয়েছে বাড়ী ঘর। কারন উন্নয়নের বলিতো কাউকে না কাউকে হতেই হবে!!!

এখন গেলে আপনি দেখবেন না গুদারা ঘাটে গুদারা বা ইঞ্জিন নৌকা আপনার জন্য অপেক্ষারত। আপনি হুডখোলা কিছু তিনচাকার বেবীট্যাক্সী পাবেন যা ঢাকা হতে বিতাড়িত হয়েছিল পরিবেশের মুক্তির জন্য।



  ছবি-১ বালিভরাট হচ্ছে ড্রেজিং পাইপের লিকেজ দিয়ে। 



আর দেখবেন আশেপাশে অসংখ ড্রেজার বালি ভরাট করছে। ঢাকাকে বড় করতে ব্যাস্ত কিছু লোক। আর আপনি যেকোন খালি জমির কাছ দিয়ে যেতে গেলেই শুনবেন হয়তো একটা প্রশ্ন কি ভাই জমি কিনবেন নাকি???
বসিলা বা চরওয়াশপুর এর অনেক পরিবারের জীবিকা ছিল এই নদী নির্ভর। কিন্তু আজ আর তা নেই। নদীই নাই হতে বসেছে। জীবিকা থাকবে কোথা হতে। বর্ষার সময় ছাড়া আপনি গেলে দূষিত পানির গন্ধে গা গুলিয়ে আসবে। 
 ছবি-২ বালি ভরাট হয়ে জেগে ওঠা কৃত্রিম চর।

এই ড্রেজারে বালিভরাটের সময় সুন্দরভাবে নদী ভরাট হচ্ছে কিন্তু আপনি দেখলে ভাবতে পারেন তারা সামান্য ভুল করে নদিতে কিছু বালি ফেলছে। ছোট একটা লিকেজ থেকে নদির ৩ আর ৪ নং পিলারের মাঝে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে যা চর পড়েছে বলে ভুল হলেও হতে পারে।

 আসলে কি তা???

February 05, 2012

ও নদীরে তুই যাস কোথা রে...

এটা আমাদের অনেকের প্রিয় একটা গান। নকীব খানের গাওয়া।  আমাদের নদীমাতৃক দেশ এই প্রিয় হয়ে উঠার পেছনে কারন। কিন্তু অদুর ভবিষ্যতে নদী কি আসলে থাকবে এই দেশে???

ঢাকা রাজধানী হয় ৪০০ বছর আগে তার পেছনেও কারন ছিল এই নদী। ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ। কিন্তু আজ ঢাকার চারপাশের নদী নাই বললেই হয়। তুরাগ ধুকছে। বালু হারিয়ে গেছে। আর বুড়িগঙ্গাতো আমাদের বর্জের বোঝা বহন করতে করতে ক্লান্ত।
  ছবি  ফেব্রুয়ারী৪ ২০১২ তারিখ তোলা
 ছবি-  ফেব্রুয়ারী৪ ২০১২ তারিখ তোলা

রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধের পেছনে তুরাগের একটা শাখাছিল। যেখানে গত বছর এসময়ে পানি এবং নৌকা চলতে দেখেছি আজ সেটা আবাসন এর গ্রাসে পরিনত হয়েছে। ঠিক একবছর পর গিয়ে দেখলাম সেখানে পানি ই নেই। নৌকা চলবে কিভাবে?? 
  ছবি-জানুয়ারি২৭, ২০১১ তারিখ তোলা


ঠিক একবছর পর আবার আমরা কি দেখব??? 




নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...