Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts

February 21, 2017

২১ এবং ...



"ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিবার চায়" আর সাথে আমরা আমাদের ভাগ্যের কথা ভাবছিলাম। সালাম, বরকত, রফিকরা প্রাণ দিল কি শুধু শুধু? অনেকে আতেল বা অন্য অনেক গালি দিয়ে দিবেন তা জানি তথাপি লিখছি। 


মাঝে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ব্যানারে ৭ বীরশ্রেষ্ঠ এর ছবি দিয়ে একুশের ব্যানার করেছে দেখলাম। শিক্ষায় আমরা কতটা নিচে নামছি তার প্রমাণস্বরূপ হয়তো এ ছবিকে ভেবেনিতে পারি।


তারপর দেখলাম সংবাদ পত্রও একই কাজ করল। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস আর তারা ছেপে দিল স্বাধীনতা দিবস হিসেবে।







সেদিন একটা ছবি দেখছিলাম একুশের সাজ শিরোনামে একটা ছবি দেখছিলাম। (যে ছবিটা এই লেখার প্রচ্ছদ ছবি হিসেবে দিয়েছি) ছবিটার কোন মিল খুঁজে পেলাম না একুশের সাথে। এটি সঙ ছাড়া অন্য কিছু মনে হয়নি। কেন এই পরিহাস? 


তারপর দেখলাম ডি জে পার্টিরও আয়োজন শ্রদ্ধা জানানোর জন্য 


কেউ কেউ দেখলাম আবার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বা ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদরা দিনটা কিভাবে এসেছে বা কেন তাই জানে না দেখলাম। 



আমেরিকার টেক্সাসে আছি ২ বছরের একটু বেশী সময়। কাজের সূত্রে হিস্পানিক লোকজনের সাথে মিশতে হয়। খুব কম সময় দেখেছি দুজন হিস্প্যানিক কথা বলছে ইংরেজিতে। তারা বাধ্য না হলে ইংরেজিতে কথা বলে না। আর আমারা নিজেদের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে দেখি ইংরেজিতে আর সেখানেই দেখি একজন সাদা চামড়ার ভদ্রমহিলা উপদেশ দেন বাংলায় যেন আমরা আমাদের বাচ্চাদের বাংলা শেখাই। তাতেও আমাদের লজ্জা হয় না। চোখে ফিল্টার লাগিয়ে নিয়েছি।


"সইমু না আর সইমু না, অন্য কথা কইমু না যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান, আহা যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান, এই জানের বদল রাখুম রে ভাই, বাব-দাদার জবানের মান ও হো..হো..হো….বাব-দাদার জবানের মান" 







November 15, 2015

আবেগের বেগ ও আমরা

আমাদের বাংলাদেশিরা একটু বেশই আবেগ প্রবণ। সাথে একটু হুজুগে পাগলও। আমি কি করে বাদ যাই। ২০১২ সালে যখন ব্লগাররা যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসির দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন তখন প্রথম ২ দিন বেশির ভাগ লোক এতে সাপোর্ট দিচ্ছিলেন। কিন্তু সাথে যখন ধর্মীয় লেবাস দিয়ে দেয়া হল তখন সবাই আমরা সরে আসলাম। আর বললাম সরকারী খিচুড়ী/বিরিয়ানি বিদায় নিয়েছে তাই সব ভেগেছে।
সাথে সাথে হেফাজত যখন ঘাটি গাড়ল আমরা সবাই ধর্মের ভয়ে নড়ার চূড়ান্ত করলাম। দেশের অর্থনৈতিক হেডকোয়ার্টার ছিল মতিঝিল এলাকা। সেখানে তাঁরা অবস্থানের সাথে ভাংচুর চালালেন তাতে খুব একটা দোষ হচ্ছিল না কারণ তাঁরা ধর্ম যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন। পরে রাতে ৫০০০-১০০০০  লোকের মৃত্যর খবর দিয়ে আবার অস্থিরতার চেষ্টা শুরু করলেন। তখনো আমরা খুব একটা কিছু বল্লামনা কারণ তাঁরা ধর্মের নামে যুদ্ধ করছে। এর আগে বাঙলা ভাই যখন শুরু হয় তখনো একই ভাবে সমর্থন দিচ্ছিলেন। 

আমরা এখনও ওদের সাফাই গাই। আরবিতে লিখে রাস্তাঘাটে মূত্রত্যগ বন্ধ করতে হয়। কারন কিছু বুঝি আর না বুঝি আরবি আমাদের ধর্মীয় ভাষা। আমাদের প্রধান আর একমাত্র  দেশপ্রেম হচ্ছে মুরগীর সাথে। মুরগীর কেনার সময় একমাত্র আমরা ভাবি দেশি মুর্গীরকথা। অন্যসব ভারতীয় পাখি দ্রেস বা পাকিস্তানি লন! হাস্যকর!

আমার লেখাটার শুরুটা ফেসবুকে অনেকেই প্রোফাইল ছবি পালটেছেন ফ্রান্সের গণহত্যায় নিহতদের শোক জানানোর জন্য। আর তার সাথে কিছু লোক শুরু করেছেন আপনি ফ্রান্সকে সমবেদনা জানিয়েছেন! কিন্তু ক্যান লেবানন বা কেনিয়া অথবা নরওয়েকে জানান নাই! আসলেই হাস্যকর আমরা নিজেরা অন্যের সমালোচনায় ওস্তাদ কিন্তু নিজের! জারাই সমবেদনা জানিয়েছেন তারা বাকিগুলোকে বলেন নাই এখন অন্তত বলছেন এটা অন্যেয়। এই লোকগুলি সিরিয়ার একটি বাচ্চার ছবিও শেয়ার করেছেন। সিরিয়া, ইরাক, লেবানন বা আফগানিস্তান সব দেশে অন্যায়ভাবে আগ্রাসন হচ্ছে। আর তা হচ্ছে মুসলমানদের একসাথে চলতে না পারার জন্যে। ও আইসি নামক প্রতিষ্ঠান মুসলিম দেশের প্রতিনিধিত্ব না করে তাঁরা সিরিয়ায় হামলার জন্য ইসরাইলকে অনুরোধ করে তখন বা সৌদিআরব যখন ইয়েমেনে হামলা করে তখন কটি মুসলমান দেশ প্রতিবাদ করেছে? 

তারপর বংগদেশে যখন চাপাতি সন্ত্রাস চালায় তখন আমরা কজন প্রতিবাদ করি! করিনা বরং সমালোচনার ঝড় তুলি। যাকে হত্যা করা হয়েছে তার রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজি। তিনি কোন দল করতেন তা ব্যের করার চেষ্টা করি আর তার চৌদ্দগুষ্ঠি না পারি তাকে উদ্ধার করে ছেড়ে দেই। আর হাস্যকর যুক্তি দেখাতে থাকি। এতে কি পরিবর্তণ করছি? 

February 02, 2015

নগর না দেবালয় ৪

এই করেছো ভাল নিঠুর হে 
এই করেছো ভাল
এমনি করে হৃদয়ে মোর 
তীব্র দহন জ্বাল... ... 


একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী। গুটি কতক চালাক লোকের পাল্লায় পড়ে ধ্বংসের মুখে। দেশের প্রধান দুটি টিমের হয়ে খেলে এই চালাক লোক গুলো। ইচ্ছে হলে কাবাব আবার কেউবা শিকার ধরে। কিন্তু সেই জনগোষ্ঠীর কপালের লেখন আর পরিবর্তিত হয় না। আবার মাঝে মাঝে দেশটা দান ও হয়ে যায়। কিন্তু মালিক যারা তাদের পোঁছে কজন। তবে কাবাবের চেহারাটা খারাপ হয় না। পরিমাণটাও নেহাতি কম না। তাতেও মন ভরেনা তাদের। হাড্ডি থাকলে কি কাবাবের মজা আছে?

শিকারির হাতের বন্দুকটাও মাঝে মাঝে ভুলে যায় কে তার মালিক। বা কার টাকায় কেনা। সে শুধু শিকার চেনে। কিন্তু শিকার হিসেবে যে মাঝে মাঝে মালিককেই ধরাশায়ী করেফেলে তা সে চেনে না। চিনবে কি করে? সে তো জানতে বা শুনতে পায় না কার টাকায় তাকে কেনা হয়েছে বা কেন এসেছে শিকারির হাতে!

পোড়াতে যে পেট্রোল লাগছে তা কেনার পেছনেও যে পুড়েযাওয়া মানুষটার অবদান আছে সেটা সে জানতে পারেনা। শুধু সে একটা সংখ্যা হিসেবে স্থান পায় পত্রিকার পাতায়।  আর তাকে নিয়ে কিঞ্চিত কান্না চলে। দু শিবিরেই দাবী উঠে সে তাদের। এমন কি তখন সে নিজের মালিকানাটাও দাবী করতে পারেনা। পুড়ে যাওয়া মাংসের আস্বাদ নিতে চায় সবাই।

কিন্তু সংখ্যাটা বেড়েই চলে। প্রতিদিন...  সকাল, সন্ধ্যা, রাত... সময় মানে না। পোড়া মাংসের আস্বাদ একবার পেলে তার কি অন্যকিছু ভাল লাগে? আমরা চালাক হবার চেষ্টা করি। আমারা সেই বড় জনগোষ্ঠী  নিজেরাই নিজেদের ঐ দলগুলির তাঁবেদারিতে লাগাই। 
এমনি করে হৃদয়ে মোর 
তীব্র দহন জ্বাল... ...





January 25, 2015

নগর না দেবালয় ৩

আজ একটি স্বাধীন দেশের বালককে কবর দিতে হবে পরিচয় হীন। সে আজ লাশ। প্রতিহিংসা বললে শব্দটিকে অপমান করা হয়। কিন্তু গলফ খেলা তখনো চলে। কারণ গলফ এর প্রতীতি বলের সাথে দেশের বিভিন্ন বড় বড় লেনদেন জড়িত। প্রতীটি কৃষক তখনো তার উৎপাদিত ফসল গো খাদ্যবানাবেন কিনা তা হিসেব করছেন আর খুঁজছেন সামনের ফড়িয়ার কিস্তি কিভাবে দিবেন।

তখনো আমাদের টাকায় কেনা পেট্রোল ব্যবহৃত হয় আমাদের জ্বালাতে। আর কফির পেয়ালাটা আবার ভরে উঠে। গল্পটা জমে উঠে সাথে সাথে। কিন্তু তাঁরা কেউ দেখতে পান না প্রতীটি কাঁপে একটু পোড়া চামড়া বা তলানিতে একটু চর্বি লেগেথাকে। যা একটু পর তার পেটে যাবে। না দেখতে না দেখতে তা পাকস্থলীতেও চলে যায়। তবু হুশ ফেরে না। গল্পটা চলতেই থাকে।


সাধারণ মানুষ একদিন দুদিন বাসায় থাকে। তাঁরা রাজনীতি বোঝে না। তাঁরা পেট বোঝে। তাদের দিন ফুরুলেই কয়েকটি পেটে দেয়ার নুন আর চাল কিনতে হয়। আর কিনতে গিয়ে হতে হয় জ্বলন্ত লাশ। সেটি কাবাব হিসেবে চলেযায় সুশীলদের পাতে। কিন্তু তবু তাঁরা পদলেহন চালিয়ে যেতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়র সর্বচ্চ ডিগ্রিধারী তিনি কিভাবে লেহন করেন একটা দালালের পা। তিনি কি করে ওদের পেছনে জি হুজুর বা অন্যকে দোষারোপ করেযান?

যাত্রাবাড়ী বা মিরপুরের লাশগুলো তখন একত্রিত হতে থাকে। ঢাকা মেডিকেলের মরচুয়ারীতে। তাঁরা ভাবে মিছিল করবে নাকি? কিন্তু সেখানে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা তাঁরা। লাশগুলো তখনো মিছিলের আগে ভাবে চালগুলো সিদ্ধ হল কিন্তু বাড়ির লোকগুলোকে কে পৌঁছে দেবে? আর এ ভাবতে ভাবতে তাঁরাও সিদ্ধান্তে আস্তে পারে না। আর তখনি তাঁরা নাম হারিয়ে সংখ্যায় পরিণত হয়। 

January 18, 2015

নগর না দেবালয় ২



আবার সেই কফির কাপের গল্পে আসি। তারা এখনো সবাই কফির কাপে ঝড় তুলেই যাচ্ছেন। কেউ বা সুশীল সেজে সামাজিক মিডিয়ায় স্ট্যাটাস ভারী করছেন। আবার কেউবা কাউকে উস্কানি মূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তাতে কি লাভ হচ্ছে? যদি লাভ হতো তবে রতন মিয়াঁর চিৎকার আপনার কানে বাজত "ভাই আগায় আসেন ভাই, আগুন নিভান ভাই, কিস্তিতে কেনা ট্রাক, কষ্টে কেনা ট্রাক ভাই, এই ট্রাক পুড়ে গেলে পথে বসতে হবে ভাই"। এটাই বাস্তবতা। বলবেন হয়তো কেন রতন মিয়া বের হচ্ছে রাস্তায় ট্রাক নিয়ে! আপনি বা আমার মত দল্ভক্ত ভানকারীরা বলতেই পারি এসব। লোকটার পেট বা তার পরিবারের সদস্যদের পেটতো সব শুনবে না!


গতকাল কিছু শিক্ষিত (কাগজে কলমে) লোকের সাথে একবেলা আহারের সুযোগ হয়েছে। এখানে দেখলাম তারা এই পুড়িয়ে মারা আন্দোলনকে খুব সমর্থন দিচ্ছেন। বসে শুনছিলাম, অনেকসময় যাবত। কিন্তু শেষপর্যন্ত নিজেকে সামলাতে পারিনি। জিজ্ঞাসা ছিল আপনি ক্ষমতায় যাবার জন্য আম জনতা পুড়াচ্ছেন কেন? আপনার পরিবারের কেউ কি আজ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে? তারা কিছু বললেন না বা একজন আরেকজনের মুখচাওয়াচাওয়ি করছিলেন। আর আমায় সরকারপক্ষ বানিয়ে তুলোধুনোর চেষ্টাও করলেন। একজন শিক্ষিত লোক কি করে এই বর্বরতাকে সমর্থন করেন?


আজ দেখলাম পুলিশের গাড়িতে পেট্রোলবোমায় আমার এলাকার এক কনস্টেবল মারাগেছেন। আমরা একই গ্রামের নই কিন্তু একই ইউনিয়নের। দেখে আমার সকাল থেকে মন খারাপ লাগল। কনস্টেবলের উর্দিটা খুললেই তো সে আর পুলিশ না। সে আমার আপনার মত মানুষ।

আজ দেখলাম একজন তার লেখায় লিখেছেন "দেশকে স্বাধীন করছেন তাঁরা। এই আন্দোলন স্বাধীনতার আন্দোলন।" কিন্তু কার কাছ থেকে? তাদের সাথে আছে স্বাধীনতা বিরুদ্ধ শক্তি। আর তাদের দিয়েই তাঁরা দেশ স্বাধীন করছেন! আমাদের এই দুষ্ট রাজনৈতিক দেবতাদের কবলথেকে মুক্তিপাব আমরা কবে?

নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...