কিছুদিন গনতন্ত্রের(তবে
আমারা জানা নাই এটা গনতন্ত্র না অন্য কিছু) জন্য যেই তান্ডব চলছে তা কত দিন চলবে
সেটা স্রষ্টা ভাল জানেন। কারো কারো মতে ১০০ কারো মতে ১৭০ কিংবা কারো মতে তারো বেশী
লোক মৃত্যুবরন করেছেন। কিন্তু কেন?
সবার আগে ভোট, তারপর
ভোট এবং তার পরও ভোট। তার পর জনগন এর যদি কোন দাবি দাওয়া থাকে তা আসতে পারে। তবে
বেশীর ভাগ সময় আসে না। আমরা বাংলাদেশীরা খুব মনে করি হরতাল আমাদের মৌলিক
গনতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু হরতাল এর মাধ্যমে কোন দাবি সুষ্ঠভাবে আদায় হয় বলে আমি
মনে করিনা। ১৯৪৭-১৯৭১ সময়ে যে হরতাল ছিল সর্বসম্মতির বর্তমানে কি তা প্রতিফলিত
হচ্ছে? আমরা ভয়ে বের হচ্ছিনা বাড়ি থেকে তার মানে কি হরতাল সফল?
ভারতবর্ষে ধর্মভিত্তিক
রাজনীতির ইতিহাস বহু পূর্ব থেকে। বারবার এখানে আক্রমন হয়েছে ধর্মীয় কারনে। ইংরেজ
আমাদের ২০০ বছর শাসন করেছে এই ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমেই। তারা তাদের ধর্ম প্রচার
করেছে। তাছাড়াও মুসলিম হিন্দু এই দু ভাগের কারনে আরো বিভিন ফায়দা লুটেছে তারা।
আমরা কি পেয়েছি তা থেকে? শুধু পিছিয়ে পড়া ছাড়া। তারা শেষ কাজটা করে গেল ধর্মীয়
ভিত্তিতে ভারত বিভাজনের মাধ্যমে। মাঝখানে পড়ে আমরা চিড়েচ্যপ্টা।
স্বাধীনতার জন্য দেশের
মানুষ যখল লড়ছিল তখনো চলছিল অপপ্রচার। তাও ধর্মীয় ভিত্তিতে। এইদেশের প্রায় ৮০ ভাগ
মানুষ যেখানে মুসলিম সেখানে হিন্দুত্তের ধোয়া তুলে বারবার অত্যাচারের স্বীকার হতে
হল। আবার ৪২ বছর পর একই ধোয়াশা আমাদের পিছুনিল। সেই একই গোষ্ঠী। ধর্মীয় মৌলবাদ,
নাস্তিকতাবাদ, আর ব্লগার এই তিনটি জিনিষ জুজু বুড়ীর মত চেপে বসলো আমাদের ঘাড়ে।
আমাদের একটা গ্রুপ ধর্ম আর ব্লগ/ফোরামকে মিলিয়ে ফেললেন একসাথে। কোনটি কি তা না
জেনেই। রাজনৈতিক দলগুলো ও ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে দৌড়ঝাপ শুরু করল। কিন্তু ফল হল
কি?
পুজিঠিকই ৭১ এর
দোশরদের রয়ে গেল। তাদের বিচার ধামা চাপা পড়ার পর্যায়ে চলে গেল। বর্তমান সরকারকে
ম্যান্ডেট দেয়া হয় এই বিচারের জন্যই। যেহেতু বিরোধী দলের সাথেই রয়েছে এই ধর্ম
ব্যবসায়ী গ্রুপ তাই তাদের বাচাতে বিরোধী দলও শুরু করল দৌড়ঝাপ। মাঝখানে কিছু
ছেলেমেয়ে যারা প্রগতিশীল তারা আন্দোলন করতে গিয়ে নাস্তিকতার বিষ বোঝা মাথায় নিতে
হল। আমরা ধর্মীয় দিকে দুর্বল। কিন্তু তাই
বলে এ নিয়ে ভাববনা তাকি ঠিক। শাহবাগ এ বসে গান গাইলাম আর ব্লগিং করলাম তাতে কি
সকলেই জানবে যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যে!
রাজনৈতিক বিষবাস্প
ছড়াচ্ছিল কিছু পত্রিকা আর এক বা দুটি টেলিভিশন চ্যানেল। কিন্তু সরকার ও চুপচাপ।
আসলেই কি চুপচাপ? তারা অলৌকিক কিছু স্ট্যান্টবাজী করছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে
কেউ কথা বলছেন না গুটি কয়েক তরুন বাদে।
মূল আন্দোলন এখন
হারানোর পথে। এখন চলছে আবার নতুন আন্দোলন। নাস্তিকতামুক্তির আন্দোলন। প্রায় ৮৫ ভাগ
মুসলিমের দেশে আজ ইসলাম হেফাজতের নামে চলছে আন্দোলন। যদিও এখনো সময় আসেনি এ বিষয়ে
মন্তব্য করার।