November 16, 2025

নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য


২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে উঠেছে নতুন ‘আয়রন-গ্রে’ বা ধূসর রঙের ইউনিফর্ম। আধুনিকতা, পেশাদারিত্ব এবং বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধির সরকারি দাবি নিয়ে এই পরিবর্তন এলেও, দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা, সমালোচনা এবং গুরুতর প্রশ্ন।
কিন্তু বাস্তবিক প্রশ্ন হলো—একটি 'কারেকশন' ছাড়াই কেবল বাহ্যিক পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ কি বাহিনীর মূল সংকট ঢাকতে পারে?
 
কেন এই পরিবর্তন? (সরকারি ভাষ্য বনাম বাস্তবিকতা)
সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই রং বদলের উদ্দেশ্যকে ত্রিমুখী বলে উল্লেখ করা হয়েছে:
        - আধুনিক ইমেজ: আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাহিনীকে আরও আধুনিক রূপে তুলে ধরা।
        - অধিক পেশাদারিত্ব: সদস্যদের মধ্যে পেশাদারিত্বের অনুভূতি জোরদার করা।
        - মানসিক শক্তি বৃদ্ধি: নতুন পোশাকে বাহিনীর সদস্যদের মানসিক শক্তি ও মনোবল বাড়ানো।
কিন্তু জনগণের বড় একটি অংশের কাছে, এই পরিবর্তন নিছকই এক প্রকার ‘পাবলিক রিলেশন্স’ উদ্যোগ ছাড়া আর কিছুই নয়। আসল প্রশ্নটি হলো—যেখানে ব্যবস্থার সংস্কার দরকার, সেখানে কেন কেবল বাইরের রং বদলানো হলো?
সংস্কারের নামে ছলচাতুরি?
যখন আমরা বিশ্বের দিকে তাকাই, তখন সংস্কারের প্রকৃত চিত্র দেখতে পাই। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর পুলিশের মূল লক্ষ্যে ছিল কার্যকর, গঠনমূলক পরিবর্তন:
        - শরীরের ক্যামেরা (Body Cams) চালু
        - আচরণবিধি কঠোর করা
        - চোক-হোল্ড (Choke-hold) নিষিদ্ধ করা
সেখানে ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি; প্রধান লক্ষ্য ছিল জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর পরিবর্তন আনা।
অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটি বিপরীত। ইউনিফর্ম বদলানো হয়েছে, কিন্তু কাঠামোগত সংস্কারের পথে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই:
        - আইনি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে কোনো নবায়ন আসেনি।
        - মানবাধিকার সম্প্রসারণ বা ঘুষ-দমনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, এই নতুন পোশাকের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার কেনাকাটার ভার্জিন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে—পরিচালন প্রক্রিয়া রয়ে গেছে আগের মতোই অস্বচ্ছ।
 
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া: 'টাকা মারার ধান্দা'
সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের অব্যবস্থাপনার শিকার, তারা এই পরিবর্তনকে ভালোভাবে নেননি। সামাজিক মাধ্যম ও জনপরিসরে তীব্র সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে:
        ❝পোশাক বদল খালি টাকা মারার ধান্দা; জনগণের নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা, বা মানবাধিকারের কোনো উন্নয়ন             হলো না।❞

        ❝যে বাহিনীর ব্যবস্থাগত শুদ্ধতা দরকার ছিল, সেখানে শুধু বাইরে রঙের পালিশ জরিপের চেয়েও হাস্যকর।❞
        এই বিশাল কেনাকাটার ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছতা নেই, যা সংশ্লিষ্ট মহলের আর্থিক সুবিধা লাভের সুযোগ তৈরি করেছে         বলে অভিযোগ উঠেছে। জনগণের চোখে, এটি সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
 
ইউনিফর্ম নয়, চাই মনমানসিকতার পরিবর্তন
পোশাক বদলের মতো বাহ্যিক পরিবর্তন দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা 'চকমকে' উঠবে না—যতক্ষণ না বাহিনীর প্রকৃত জবাবদিহিতা, নীতিগত শুদ্ধতা ও মানবাধিকারের সংস্কার হয়।
বর্তমানে দেশে যেটা দরকার ছিল, তা হলো—প্রশাসনিক ও মনমানসিকতার সংস্কার। অথচ, এখন সেটা না পেয়ে উল্টে নতুন পোশাক বদলের নামে উদারহস্তে সরকারি টাকা খরচের ধুম চলছে। জনগণের প্রশ্ন সহজ: পোশাকের রং বদলে যদি বাহিনীর চরিত্র না বদলায়, তবে এই খরচ কেন?

November 11, 2025

৫টি ব্যাংকের পতনের পেছনে গভর্নরের অতিকথন দায়ী...


বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে একের পর এক সংকট দেখা দেয়। বিশেষত ৫টি ইসলামি ব্যাংকে বড় ধরনের তারল্য সংকট দেখা যাওয়ার পর সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমানতকারীরা দ্রুত টাকা তুলতে শুরু করেন, যেটি ব্যাংকগুলোর সংকট আরো বাড়িয়ে তোলে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, এসব ব্যাংক একীভূত করে একটি শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে এবং বাজারে আবারও আস্থা ফিরিয়ে আনতে নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে যা ফাঁপা বুলি ছাড়া কিছুই নয়।এর আগে ব্যাংক গুলো দখল করে একটি গোষ্ঠী।


এই প্রতিকূল পরিস্থিতির পেছনে অনেকেই গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের একাধিক মন্তব্য ও ‘অতিকথনের’ ভূমিকা তুলে ধরেছেন। তার কথাবার্তা ও কঠোর সংস্কারমূলক ভাবনা ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি, গ্রাহক ও বাজার অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করে। মনসুর নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা এবং সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিলেও, এসব পদক্ষেপে তড়িঘড়ি ছিল এবং যথাযথ প্রস্তুতির অভাব ছিল।


এই পাঁচটিকে সমস্যাজনিত ব্যাংকে পরিনতকরতে না করতে তিনি নেমেছেন নতুন তিনটি ব্যাংক নিয়ে। তার দেয়া বক্তব্যের পর দেখা যায় সেই তিন ব্যাংকের শেয়ার দরে নিম্নগতি। পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ এবং নতুন আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে সংকট কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও, ব্যাংক খাতে আস্থার ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে শেয়ার বাজারে ওই ব্যাংকগুলোর শেয়ারদর নম্বরের ঘরে নেমে আসে, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত লেনদেনে আস্থার সংকট তীব্রতর হয়।


বহু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, গভর্নর মনসুরের প্রকাশ্য মন্তব্য ও অতিকথন ব্যাংকিং সেক্টরের টিকে থাকার জন্য সুফল বয়ে আনেনি, বরং সংকটের আগুনে ঘি ঢেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের চ্যালেঞ্জ এখন বাজারে নতুন করে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আর জনমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে তিনি আসলেই কি অন্য কারো উদ্দেশ্য সফলের জন্য গভর্নরের মতন পদ অলংকৃত করছেন??

December 29, 2018

ও নদীরে তুই যাস কোথারে

দেশে নির্বাচনের বাতাস বইছে। শীতল আবহাওয়ায়ও বড্ড গরম। বিভিন্ন দিকে চলছে পক্ষবিপক্ষের লড়াই। লড়াই দেখতে দেখতে যদিও আমরা সবাই একরকম অভ্যস্ত হয়ে গেছি তবুও মনে হয় লড়াই না হলেই ভাল হয়। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই। আগে আমরা বলতাম পানির অপর নাম জীবন আর এখন বলি বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন (সুপেয়ও বলতে পারি)। পানি নিয়ে কর্পোরেট এডভার্টাইজ কোম্পানি গুলোও এখন থেমে নেই। পিউরিট সহ অন্যান্য কোম্পানি চটকদার বিজ্ঞাপনে বেচে যাচ্ছে পানি বিশুদ্ধকরন কিট। সাথে পাম্প কোম্পানি গুলোও আছে। পানি নিয়ে ভাবনা আর না আর না। আসলেই কি তাই। আমাদের সামনে পানি নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে মনে হয়
বইয়ে আমরা নিত্য পড়ি "নদী মাতৃক দেশ আমাদের বাংলাদেশ"। কথাটা সত্যি। কিন্তু ২০০+ নদী ও নদ বাংলাদেশকে এফোঁড় ওফোঁড় করে চলে গেছে সাগরের দিকে। কিন্তু কটার খেয়াল রাখছি আমরা। প্রতীটি নদীর এখন করুন অবস্থা বানাচ্ছি। ঘরের ময়লার ব্যাগ থেকে শুরু করে সব কিছুই আমরা ফেলছি নদিতেই। ঢাকা সহ বিভিন্ন শহর গড়ে উঠেছিল নদী কেন্দ্রিক। এক সময় গল্প শুনতাম শীতলক্ষ্যায় পয়সা ফেলে ডুব সাঁতার দিয়ে তা আবার খুঁজে আনা যায়। পরিষ্কার পানির কথা চিন্তা করেই শহর কতৃপক্ষ শীতলক্ষ্যা থেকে পানি আনা শুরু করে সুপেয় পানির উৎস হিসেবেই। বাংলাদেশে আমরা সারফেসের পানির বদলে বেশির ভাগই ব্যাবহার করি ভু-অভ্যন্তরীণ পানি। কিন্তু কতদিন এভাবে চলবে?
নদীগুলো মরছে। একবার একটা ইটিপির ডিসাইন ফেজে গিয়ে দেখার পর মনে হল ফ্যাক্টরির লোড অনুসারে কাজ হবে না তখন রিকমান্ডেশনে তা লেখার পর জনৈক মালিক পক্ষ আমায় একটু খারাপ ভাবেই বললেন সরকারের ব্যাপারে আপনাদের কিছু রিকমান্ডেশন নাই? তারা যে তাদের সব ময়লা নদিতে ফেলে তাদের কিছু না বলে কেন আমাদের ইনভেস্টমেন্ট বাড়াচ্ছেন? সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকও ছিল। তাঁরাও কিছু বলেনি।

বহুদিন (এক সিনিয়রের ডেটা কালেকশনে সাহায্য করতে প্রথম যাই সেখানে) পর বুড়িগঙ্গার একটা শাখার খোজ নিতে কামরাঙ্গীর চরের দিকে গিয়ে যা দেখলাম তাইতে আমি কিছু ভাবার অবকাশ পাইনি। অনেক খুঁজেও নদীর অংশটা পাইনি সেদিন। বছর আটেক আগের সেই শাখাটা নাই হয়ে গেছে অনেকটাই। এখন সেটা শুকনো।আটকে পড়া পচে যাওয়া পানির গন্ধে টেকা দায় ছিল তখন। একরকম পালিয়েছিলাম।
আমাদের নদীগুলো ঠিক এমনি হারাচ্ছে। হারাচ্ছে আমার ঘাঘট কিম্বা পুনর্ভবা। এখন নদীগুলো হাড় জিরজিরে অবস্থায় ধুকছে। আমরা কি পারিনা এদের রক্ষা করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে লার্জ স্কেল বেসিনের মত কিছু করতে?

ছবির সময়কাল জুন ২০০৮ আর তোলা হয়েছিল বসিলা থেকে
জুন ২০০৮
Saifsohel Photography

নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...