গতকাল সন্ধ্যায় খবর দেখতে গিয়ে দেখলাম র্যাব এর ম্যাজিষ্ট্রেট আনোয়ার পাশার সাক্ষাতকার পাশে কিছু মুরগি হাতে একজন লোক দাঁড়িয়ে। কিছু সময় পর শুনলাম লোকটি মড়া মুরগির ব্যাবসা করে। আর তার খদ্দের হচ্ছে ঢাকার নামকরা কিছু রেস্তোরা। ভালই মনে হচ্ছে শুনে! খারাপ কিছু নয়! সকল ধর্মেই আছে অপচয় কারি শয়তানের ভাই। তাই মরেছে তো কি হয়েছে? মানুষ তো জীবন্ত মুরগি খায় না!!!
আমরা কি খাচ্ছি?? মরা মুরগি, চক পাউডার, কাপড়ের রঙ। নতুন নতুন আইটেম যোগ হচ্ছে খাবারে। মানুষ বাড়ছে সেই সাথে খাবারের যোগান ও তো বাড়াতে হবে! তাই আমরা সর্বভূক মানুষ সব কিছুকেই আহার্যের মাঝে নিয়ে আসছি। সামনে যে আরো কতো কি অপেক্ষা করছে তা একমাত্র স্রষ্টাই জানেন।
এই মর্তধামে মনে হয় আমরাই একমাত্র দেশ যারা খাবারেও ভেজাল মেশাই। আর এই ভেজাল মেশানোর শাস্তি সামান্য অর্থদন্ড আর কিছুদিন সশ্রম/বিনাশ্রম কারাদন্ড। কিন্তু এই শাস্তি কি আসলেই কোন কাজে আসছে?? এই ভেজাল মেশানো খাবার খাওয়ায় মানুষকে ভুগতে হচ্ছে বিভিন্ন ব্যাধিতে। ক্যান্সার, কিডনি নষ্টহয়ে যাওয়া, লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়া আরো অনেক রকম ব্যাধিতে পড়তে হচ্ছে।
গতকাল আরেকটা খবর দেখে আরেকটু অবাক হলাম। আইডিয়াল নামক এক কোম্পানী বিভিন্ন প্ন্য বাজার জাত করে BSTI এর অনুমতি ছাড়া। আর তার বেশিরভাগ তৈরি হয়েছিল চক পাউডার বা কাপড়ের রং দিয়ে। তার ব্যাবস্থাপক এর মাত্র এক মাসের হাজতবাস আর ২লাখটাকা জরিমানা হয়। সাথে মিনাবাজার, আগোরা আর স্বপ্ন তিনটি দোকানকে এক সাথে জরিমানা করা হয়েছে এসব ভেজাল বিক্রির দায়ে। এই তিন জনের স্লোগান অনুযায়ী তারা সবাই ফ্রেশ জিনিশ বিক্রির সাথে জড়িত। অনেকের মতে এখানে দাম একটু বেশি নেয় কারন তার ভাল জিনিষ বিক্রির সাথে জড়িত। তবে কোথায় নিরাপদ আপনি বা আমি?? আমার বা আপনার বিশ্বাস ভাঙ্গার জন্য কি তাদের আরো বেশি স্বাস্তি হওয়া উচিত নয় তাদের??
ভেজাল খাদ্য খাওয়ানো আর মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া কি এক ধরনের হত্যা নয়? তবে এর শাস্তি কেন একবছর বা দুবছর এর জেল বা নামকাওয়াস্তে জরিমানা হবে? আর এর বিক্রির সাথে জড়িতদের শাস্তির পরিমান আরো বাড়ানো উচিত নয় কি??
এই আইনটার বেপারে নতুন করে ভাবার সময় হয়নি কি??
