ও গানওয়ালা আরেকটা গান গাও
আমার আর কোথাও যাবার নেই
কিচ্ছু করার নেই।
ছেলেবেলার সেই বেহালা বাজানো লোকটা
চলে গেছে বেহালা নিয়ে
চলে গেছে গান শুনিয়ে।
অনেকদিন মনে হচ্ছে বেহালাটা নিয়ে না গেলে হয়তো আমি নিজেও গাইতাম। সেদিন বন্ধু সোহেল আর হাসান ভাইকে নিয়ে হুট বের হলাম ওয়াল মার্টে যাব টুকিটাকি জিনিশ কিনতে। রুপা গাঙ্গুলির গাওয়া একটা রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতে শুনতে। ঠিক শুনতে বলবোনা গিলতে গিলতে বলবো বুঝছিনা। বহুদিনের পুরাণ অভ্যেস একটা গান পেয়েবসলে সেটা সারাদিন মাথায় ঘুরে। তেমন হচ্ছিল সেদিন। হাসান ভাই বলেই বসলেন আজ তুমি নিজের মাঝে নেই। কিছুটা স্ক্যাটার্ড। ঠিক তেমনি আজও তেমনি আরেকটা গান শুনছিলাম রবিবাবুর। বরাবরের মতনই মনে হচ্ছিল এ যেন আমার নিজের জন্যই লেখা। আসলে কি! ওপরের সুমনের গাঁতা শুনলে মনে হয় আমি মার্কিন রং বেরঙের রাস্তায় ঘুরে বেড়াবার জন্যই কি জন্মেছি। আমার রক্তে বাংলার তরল লাল সবুজ রক্ত। ওটা ছুটির দিনে গ্রামের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর রক্ত। সেটা শনিরবি বার বাসার পেস্ট কন্ট্রোল করার জন্যই ক? পাহাড় জংগলে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। কাজের জন্য এখানেও বনে জংগলে ঘুরে বেড়াই কিন্তু ঠিক কেমন যেন নিজের মনে হয় না। ঠিক আপন নয়। একদিন এক বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল তুমিতো দেশে ভালই ছিলে কেন গেলে? উত্তর দিতে পারিনি।
গ্রাজুয়েশনের পর কিছুদিন বেকার ছিলাম। ঠিক বেকার বলবো কি? ওয়েডীং ফটোগ্রাফি করি। তাও মনের মর্জি মতন। ভাল লাগে ছবি তুলতে আর পকেট খরচ আসে ওই ওয়েডীং এর টাকাথেকে। পাশা পাশী অবশ্য পাগলের মতন ছবি তুলে বেড়াই আর চাকুরীর ইন্টার্ভিউ দেই। যখনি ভাবি এইবার কিছু না হলে ঠিক পালাবো! কোথাও না কোথাও হয় পড়তে নয় বাউন্ডুলের মতন ঘুরে বেড়াতে ঠিক তখনি নয়টা পাঁচটার ব্যাংকে ঢুকে পড়া! আর আবার পাশাপাশি ছাত্র হিসেবে ফেরত যাওয়া!
ঠিক তখনি মনে হয় বেহালা ওয়ালা হারিয়ে গেছে কোথাও। সে আর ফেরেনি। বেহালা ওয়ালারা আর ফেরেনা। নির্লিপ্তরো আর বাউণ্ডূলে হওয়া হয় না আর। পথে পথে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যায় সেই নয়টা পাঁচটার কোলাহলে বন্দি হয়ে।
No comments:
Post a Comment