May 18, 2013

MADE IN BANGLADESH


১।
 শুক্রবার নামাযের পর এক ফুফাত বোনের বিয়েতে গেলাম। সেখানেই মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠাল এক বন্ধু "১৭ দিন পর একজন নারী কর্মী উদ্ধার সাভার রানা প্লাজার ২য় তলা থেকে। খুশি লাগল। যাক আর একজন তো বেচে যাওয়াদের তালিকায় ফিরলেন। তিনি কোন নাম্বারের না হয়ে নামের হয়ে এলেন। কিন্তু দিন শেষ না হতে দেখলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে ঝড় উঠেছে। কারো কারো সাধুবাদ বা কারো সমালোচনায়। তবে বেশীরভাগ মনে হয় শুকরিয়া আদায় করেছেন। 

কারো কারো কথা রেশমা এতোদিন পর জীবিত তবুও ওর কাপড় নতুন কেন? কারো প্রশ্ন তারে দেইক্ষা এরকম ফ্রেশ লাগতাছে কেন? আরো কত কি!!!

রেশমা নিজেই তার উত্তর দিয়েছে। সে যেখানে পড়েছে সেখানে খাবার দাবার কিছু কিছু পেয়েছে । শেষ দুদিন কিছু খেতে পায় নি। ফায়ার সার্ভীসের দেয়া চুইয়ে পড়া পানি সে খেয়েছে। এবার আসি কাপড়চোপড়ের কথায়। সেখানে অনেক কর্মীর কাপড় তাদের বের করতে গিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে তাই বলে আমাদের উদ্ধারকর্মীরা তো তাদের সেভাবে সবার সামনে আসতে দেন নাই। যারা সমালোচনা করেছেন বা করছেন তাদের কাছে জিজ্ঞাসা আপনাদের মূল জিজ্ঞাসা আসলে কি??  আর বার বার বলতে ইচ্ছে হয় "হায় বোন রেশমা। কেন তুই বেচে উঠলি। আমাদের সুযোগ দিলি রাজনীতির?"

এখানে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ে যান নাই উদ্ধার করতে। হেফাজত ইসলামি ছাড়া, কারন তারাই একমাত্র মাথায় পরচয় সূচক বেধে কাজ করেছেন। তবে কেন তাদের আমরা  মিথ্যা অপবাদ দেবকেন? 

২। 
আমরা অনেকেই গার্মেন্টস কারখানায় হওয়া বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি কিন্তু কতজন জানি আমরা এর ভেতরের কথা? আমরা হয়তো অনেকেই বেতন ভাতা বা অন্যান্য জিনিস নিয়ে সুখি না। আমাদের এখানে তাজরিন বা ফ্যান্টম যেমন আছে তেমনি স্কয়ার বা বেক্সীমকো, অনন্ত বা দুলাল ব্রাদার্স এর মত কারখানা রয়েছে যেখানে ডর্মেটরী থেকে শুরুকরে সব শুবিধা রয়েছে।  তাদের জন্য এই অভাজনের অনুরোধ আপনারা জানুন। তারপর কথা বলুন। আমাদের না জেনে কথা বলা থেকে বা আমাদের ভুল তথ্যের সু্যোগ নিয়ে আমদের "MADE IN BANGLADESH" ব্র্যান্ডটি রক্তাক্ত হচ্ছে।  আর তার ফল হিসেবে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন লোকের বেকার হয়ে যাওয়া যা আমদের অর্থনীতি ও সরকারের জন্য এটা হবে খুব খারাপ সংকেত। কারন জিডিপিতে তাদের অংশ গ্রহনও খুব একটা কম নয় কিন্তু। 

আমরা কি পারি না আমাদের হারানো সুনাম ফেরত আনতে। আমরা রাজনৈতিক ভাবে চিন্তা করি সব কিছু। বিরোধী জোট ক্ষমতায় আসলেও একই অর্থনীতির পিঠে সওয়ারী হতে হবে। তাই কেন বিরোধীতা? সরকার সমর্থক বা বিরোধীজোট  সমর্থক সবার ই উচিত  মিলে মিশে এক্ষেত্রে কাজ করা ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডের জন্য কাজ করা। আপনার প্রোফাইল ছবি থেকে আজই বাদ দিন না সেই রক্তাক্ত ছবি! বাংলাদেশের পোশাকের দাম রক্ত দিয়ে নয় হোক মূল্যায়ন সঠিক মুজুরীর বিনিময় মূল্যে। তবেই কানাডার কোন দোকান তাদের দরজায় সাইনবোর্ড ঝুলানোর মত সাহস পাবে না যে " এখানে বাংলাদেশের তৈরী কাপড় নেই"।

কারন আমরা মানসম্মত পোষাক তৈরী করি।

ব্যাবহৃত ছবিঃ  ইন্টারনেট হইতে সংগৃহীত



নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...