২০০৭ সালে আমার মাষ্টার্স এর একটা কোর্স এর
মাঠ কর্ম করতে যাই ইছাপুর এলাকায়। মাঝে কবছর ইছাপুর ব্রীজ পার হয়ে আর যাওয়া হয় নাই। কিন্তু ২০১১ এ গিয়ে দেখি এলাকাটা পুরোটাই পাল্টেগেছে। খিলক্ষেত থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে একসময় বালু নদীর শাখা এবং কিছু খাল
আর ডুমনী বিল ছিল। আজ তা আমরা দেখি হাউজিং কোম্পানির বিজ্ঞাপনে। ঢাকা হতে মাত্র ৫
মিনিটের পথ বা নতুন ঢাকা পুর্বাচল আর ঢাকার মাঝে এমন বিজ্ঞাপনী ভাষা। কিন্তু আমাদের জন্য ভাল কিছু তৈরি হচ্ছে কি আদৌ?
ছবিঃ দূরে বসুন্ধরা আবাসিক এর Exclusive শহর।
ছবিঃ বসুন্ধরা আবাসিক এর ভরাট করা যায়গা যা আগে খাল ছিল।
আমি অনেকদিন যাবত যাই এই এলাকায়। ছাত্রথাকা কালীন গিয়ছি মাঠকর্মের জন্য। তা
ছাড়া এদিক দিয়ে রুপগঞ্জ যাওয়া সহজ হওয়ায় এপথ নিয়েছি বিভিন্ন সময়। তাছাড়া
নেশার(ছবিতোলা) টানেও গেছি বহুবার। দেখেছি এর পরিবর্তন। বর্ষায় গেলে দেখতাম দুকুল
ছাপিয়ে পানি আর নৌ্কায় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, শীতকালে সবজির চাষাবাদ । কিন্তু আজ গেলে দেখা যায় ধুধু
বালিচর।
আমার
পরিচিত এক সময়ের কৃষক পরিবারের সদস্য
সুখচান্দ। এখন পুরো দস্তুর দর্জি। তার জমিনের কিছু অংশ এখন বসুন্ধরা
আবাসিক। কিছু
পিঙ্ক সিটি জেনোভ্যালী। আর কিছুটা পড়েছে সানভ্যালী নামক আবাসন এলাকায়।
বাধ্য হয়ে
বিক্রি করেছেন বাপদাদার সুত্রে পাওয়া এই সব জমি। সুখচান্দ কী সুখে আছেন?
সেদিন
দেখা হলে জিজ্ঞাসা ছিল তার কাছে। কিছু সম বাহিরে তাকিয়ে থেকে উত্তর দিলেন
আজ আর
নিজের ক্ষেতের ধানের চাল খেতে পাইনা। মাছ ও কিনে খাওয়া লাগে। জমিন বেচে
টাকা পাইসি কিন্তু শান্তি ত হারায়ে গেছে!এখন ভেজাল ছাড়া খাইতে পারিনা।
টাটকা শবজী নাই। মাছ নাই বিলে। বিল ই তো নাই। এক নিঃশাসে কথা শেষ করলেন।



