সকাল সকাল এসে বনের গন্ধের মাদকতায় বুদ হচ্ছি। হঠাত দুজোড়া চোখের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। বহুদিনের চেনা মিনে হলো। ওদিকেও কি তাই? এ দেখে কবি হলে দু লাইন লিখে ফেলতাম বোধ হয়। আজই আবার বুঝলাম হরিনীদের নিয়ে এত কবিতা চর্চা কেন হয়! বিদ্যুৎ কোম্পানির রাস্তা থেকে একটু জংগলের দিকে ঘুরতেই দে ছুট। আর পেলাম না। একটা রেড এডভ্যান্ট নাচছে আর গাইছে। দুটো চড়ুই গোত্রের পাখিও দেখলাম। ওদের পরিচয় বের করতে হবে!
একটা কপার হেডের বাচ্চা দেখলাম। ঝিম মেরে পড়ে আছে। আরেকটু হলে দিয়েছিলাম পা ওর লেজেই। তবে আর দেখতে হতো না। এই এলাকার বিষাক্ত সাপগুলোর একটা। মাঝে মাঝে ক্যামেরা হাতে না থাকলে ভালই লাগে। একটা মকিং বার্ড কিছুক্ষণ গান শোনালো। উপরে শকুনদের প্রাতঃকালীন মহড়া চলছে। এই এলাকায় রাঞ্চ থাকায় মনে হয় শকুনের পরিমাণ বেশি। আজ একটা দেশি কাক দেখলাম। খুব সহজে ওদের দেখা পাওয়া যায় না যদিও।
এই যায়গাটায় একটা ৩০ হাজার একরের ডীটেনশন বেসিন হবে। যে কোনদিন কাজ শুরু হবে। তখন বড়বড় ডোজারের কাছে পরাজয় মানবে এসব পাখি বা গাছ গাছালীরা। তখন অন্যকেউ আসবে সেখানে। হয়তো জলচর কেউ! কিন্তু এমন বিস্তির্ন সবুজ হারাবে! আর্টিফিশিয়াল পার্ক হবে। লেক হবে কিন্তু তখন কি এসব হরিনহরিনীদের সাথে চোখাচুখি হবে বা আমরা কেউ লুকিয়ে চুরিয়ে চোখ রাখবো আরেকজনের উপর? এটাও একধরনের প্রেম নয়কি?
