December 03, 2018

আমার বাবা স্কুল শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে সম্মান করতো আবার ভয় পেত তাঁর রাগের কারণে। তাঁকে দেখতাম যেমন শাসন করতো তেমনি আদরও করতো। এখনো তাঁর ছাত্রছাত্রীদের দেখি তাঁকে দেখলে কেমন পাগলের মত ভাল বাসে।আমার পরিবারে অনেক শিক্ষক। গিন্নি নিজেও শিক্ষক হওয়ায় এখানকার সাথে আমার ছোট বেলার শিক্ষদের ব্যাবহার মেলাই। তখন দেখি আমার ছোট বেলায় পেয়েছিলাম শ্রেষ্ঠ কিছু মানুষকে শিক্ষক হিসেবে।

সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর প্রথম যে কাজটা এখন করা হয় তা হলো মুঠোফোনে পৃথিবী ভ্রমণ। খবরের কাগজের সাইট গুলোতে ঘুরেবেড়ানো পুরনো অভ্যেস সাথে মুখবইয়েও চোখ বুলানো। আজ সকালে দেখতে গিয়ে থমকে গেছিলাম একটা খবরে। একটা আত্মহত্যার খবরে। যে বয়েসে স্বপ্ন দেখার কথা, যখন সে ভাববে কোথায় ঘুরে বেড়াবে বার্ষিক পরীক্ষার পর ঠিক সে সময় মেয়েটা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজের জীবন দিয়ে দেয়। কেন এমন হবে? কিছুদিন আগে একবার লিখেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রস্টেশন থেকে আত্মহত্যার কথা! কিন্তু এই মেয়েতো সেসব নিয়ে ভাবার বয়েসই হয়নি।

আর আমার শিক্ষকরা কেউ আমার সম্পর্কে কিছু কমপ্লেন আমাদের সামনে বসিয়ে করতেন না কখনোই। প্রতিটা শিক্ষকই একজন পিতা বা গার্ডিয়ান। আর তাঁর বাচ্চাদের শেখার অনেকাংশ কিন্তু তাঁর স্কুল থেকেই শেখে! তাই বলে আরেকজন গার্ডীয়ানকে কি করে অপমান করছেন আপনি? এর মাধ্যমে আমরা কি হত্যা করেছি মেয়েটাকে?
আমাদের মনে হয় শিক্ষাব্যাবস্থা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে এখন?

November 25, 2018

হেচকি এবং


কিছুদিন আগে হেঁচকি নামে একটা সিনেমা দেখেছিলাম। হিন্দি সিনেমা দেখা আমার সময় কাটানোর জন্য। কিন্তু এই সিনেমা মনে করিয়ে দেয় অনেক কিছু। ছোটবেলার কথা। ছোটবেলায় কথা বলতে প্রচণ্ডহারে মাম্বলিং করতাম। সেই নিয়ে প্রচুর বুলিং হতো। বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে। আবৃত্তি শেখার চেষ্টাটা সেখান থেকেই। অনেকবার শুনতে হয়েছিল তুই পুকুর পাড়ে গিয়ে একা একা কথা বলে শিখে আসবি কি বলতে হবে। ছোটবেলায় একটা বাচ্চা কথা বলছেনা কোথাও! বুলিং এর জন্য। আজ আমরা বিভিন্ন কথা বলতে গিয়ে শুনছিলাম বুলিং সম্পর্কে। সেটাও টেনে নিয়ে গেল সেই ছোটবেলায়। এখনো হুঠাট শুনতে হয় তেমন বুলিং। কিছুদিন আগেই শুনেছিলাম এক বন্ধুর কাছ থেকে একটা শব্দ "গাঁইয়া"। এমন অনেক শব্দ আমাদের মাঝে ফ্রাস্টেশন এনে দেয়। কেউ এ থেকে বের হতে পারেন কেউ পারেন না।
মূল প্রসঙ্গে আসি... ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিনের মাঝে ৮ জন আত্মহত্যা করেছে। এর পেছনে কারণ কি আমরা কি কখনো ভেবেছি? সবাই পত্রিকার খবর দেখেই শেষ। কেন এমন ক্লান্তি এসে যায় জীবনের প্রতি। তারা সমাজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। এদের কি আমরা মোটিভেট করার চেষ্টা করেছি। তাঁদের ডিপ্রেশন কেন? আসলেই এসব নিয়ে চিন্তার সময় এসেছে বোধহয়। এসব ক্লান্তি মনে হয় দূর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতি ও আমাদের সামাজিক ব্যাবস্থাকে কিছুটা হলেও বদলানোর সময় হয়েছে। এভাবে আর কত হারাবো আমাদের তরুণ সমাজকে...

October 15, 2018

আজ বারীষ নেমেছে বড্ড। ক্যাম্পাস ছাড়ার পর খুব একটা আনন্দ লাগেনা বৃষ্টি মহাশয়াকে দেখতে। বৃষ্টি মানে  ক্লাসে যাবনা। সারাদিন শুয়ে  বই পড়বো। আর পাশের শব্দযন্ত্রে বাজবে গান। বহুদিন এমন হয়না। শহুরে বৃষ্টিতে মজার চাইতে ভওগান্তি বেশি। তা ঢাকা হউক আর মার্কিনীদের আধুনিক শহর। সব একই। তবে কিছুটা পার্থক্য মনে হয় আছে।


 প্রথম আসার পর ম্যাসাচুসেট্সএ একবার খুব ইচ্ছে হলো ভিজি! বৃষ্টির মাঝে নামার পরই মনে হলো এই আমাদের প্রিয়তমা বৃষ্টি নয়। এ যেন বরফের কুচি ছিটাচ্ছে। কি ঠান্ডারে বাবা। পরে আর সেই চেস্টা করিনি! কিন্তু টেক্সাসের বৃষ্টিতে কয়েকবার ভিজেছি আর তা কান্ট্রিসাইডে।  আহা... মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশকে।

আমার পড়ালেখা যে বিশ্ববিদ্যালয়েতা আসলেই প্রকৃতির রোমান্টিকতায় ভরপুর। আওনি কাঠখোট্টাহলেও ক্যাম্পাসে গেলে আমুল বদলাবেন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এলে কে না বদলায়। একবার ব্যাংকের কাজ আর পড়ালেখা মিলিয়ে দীর্ঘ ৩ মাস যেতে পারিনি। মনে হয়েছিল হাজার বছর যাইনি। 


যাই হউক শুরু করেছিলাম এক উদ্দেশ্যে বার বার বিচ্যুতি ঘটছে। ক্যাম্পাসে থাকার সময় আমার রুমে প্রচুর বই ছিল আর রুমমেটো ছিল পড়ুয়া(টেক্সট নয়  কিন্তু)। তাই দুজনে এখনো কথা হলে জাবর কাটি সেসব দিনের। সেই অভ্যেস গুলো হারিয়ে গেছে। কিছুটা জুকারবার্গের কল্যানেই বলতে হয়। ছয় মাস হলো ৫ টা বই এসেছে দেশ থেকে। পড়া শেষ হয়েছে মাত্র ১ টা। আরো দুইটা আসছে! 

এদিকে ঠান্ডা নেমেছে যে ফিল্ডে বসে খিচুড়ি আর  ইলিশ কই পাই...দুধের স্বাদ ঘোল(কফি) দিয়ে ঠান্ডা দূর করতে গেলাম তাও এমন কফি পেলাম হাতের কাছে যা কুইনাইনের মতই গিলছি ;(

February 21, 2017

২১ এবং ...



"ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিবার চায়" আর সাথে আমরা আমাদের ভাগ্যের কথা ভাবছিলাম। সালাম, বরকত, রফিকরা প্রাণ দিল কি শুধু শুধু? অনেকে আতেল বা অন্য অনেক গালি দিয়ে দিবেন তা জানি তথাপি লিখছি। 


মাঝে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ব্যানারে ৭ বীরশ্রেষ্ঠ এর ছবি দিয়ে একুশের ব্যানার করেছে দেখলাম। শিক্ষায় আমরা কতটা নিচে নামছি তার প্রমাণস্বরূপ হয়তো এ ছবিকে ভেবেনিতে পারি।


তারপর দেখলাম সংবাদ পত্রও একই কাজ করল। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস আর তারা ছেপে দিল স্বাধীনতা দিবস হিসেবে।







সেদিন একটা ছবি দেখছিলাম একুশের সাজ শিরোনামে একটা ছবি দেখছিলাম। (যে ছবিটা এই লেখার প্রচ্ছদ ছবি হিসেবে দিয়েছি) ছবিটার কোন মিল খুঁজে পেলাম না একুশের সাথে। এটি সঙ ছাড়া অন্য কিছু মনে হয়নি। কেন এই পরিহাস? 


তারপর দেখলাম ডি জে পার্টিরও আয়োজন শ্রদ্ধা জানানোর জন্য 


কেউ কেউ দেখলাম আবার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বা ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদরা দিনটা কিভাবে এসেছে বা কেন তাই জানে না দেখলাম। 



আমেরিকার টেক্সাসে আছি ২ বছরের একটু বেশী সময়। কাজের সূত্রে হিস্পানিক লোকজনের সাথে মিশতে হয়। খুব কম সময় দেখেছি দুজন হিস্প্যানিক কথা বলছে ইংরেজিতে। তারা বাধ্য না হলে ইংরেজিতে কথা বলে না। আর আমারা নিজেদের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে দেখি ইংরেজিতে আর সেখানেই দেখি একজন সাদা চামড়ার ভদ্রমহিলা উপদেশ দেন বাংলায় যেন আমরা আমাদের বাচ্চাদের বাংলা শেখাই। তাতেও আমাদের লজ্জা হয় না। চোখে ফিল্টার লাগিয়ে নিয়েছি।


"সইমু না আর সইমু না, অন্য কথা কইমু না যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান, আহা যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান, এই জানের বদল রাখুম রে ভাই, বাব-দাদার জবানের মান ও হো..হো..হো….বাব-দাদার জবানের মান" 







November 30, 2016

কয়লা কথন ১

কয়লাকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভবিষ্যৎ জ্বালানী হিসেবে ভাবছি আমরা। যদিও আমরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার এর অধিকারী হতে যাচ্ছি শীঘ্রই তথাপি এটি আমাদের মত জনবহুল দেশের জন্য কতদূর লাভ জনক তাও ভাবার সময় এখনো ফুরিয়ে যায় নাই। রামপাল, মহেশখালী, বাশখালী ছাড়াও বড়পুকুরিয়া বা নতুন হাতে নেয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পকল্প সমূহের জন্য লাগবে পর্যাপ্ত কাচা মাল। যা অস্ট্রেলিয়া/ভারত হতে আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন কি তা চায়না হতেও হতে পারে। আমোদের যে ছয়টি কয়লার রিসার্ভ রয়েছে তা নিয়েও ভাবার সময় হয়েছে বলা যায়। বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে স্বল্পাকারে উত্তোলন হলেও অন্যান্য গুলো নিয়ে রয়েছে অনেক সমস্যা।



বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জায়গা নির্ধারন নিয়ে কিছু কথা রয়ে গেছে। আমরা পরিবহন খরচ বাঁচাতে কয়লা খনির পাশেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করি। আর এর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভূ-অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবহার করছি। যার ঋনাত্বক প্রভাব  দেখছে এখনি।  ভু অভ্যন্তরীণ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। অথচ বর্তমান স্থান থেকে মাত্র ৬ কিলো মিটার দূরত্বে নদী রয়েছে। আবার বর্তমানে ঠিক একই যায়গায় আমরা এর তৃতীয় ইউনিট এর নির্মান কাজ করছি। 
এতে আরও পানি আমারা উত্তোলন করবো আর সাথে আমাদের ভূ-অভ্যন্তরের পানির পরিমাণ  কমতে থাকবে। কারণ এতে একুইফার সিস্টেম ধ্বংস হবে। যা একে ওপরের সাথে নির্ভরশীল। কৃষি নির্ভর এই এলাকাটা জলশূন্য হয়ে যাবে। তাতে বিদ্যুৎ ছাড়া আম্যাদের আর  খুব বেশি কিছু থাকবে না। তখন শুধু বিদ্যুৎ কি সেই জলের শূন্যতা পূরণ করতে পারবে? 

November 15, 2015

আবেগের বেগ ও আমরা

আমাদের বাংলাদেশিরা একটু বেশই আবেগ প্রবণ। সাথে একটু হুজুগে পাগলও। আমি কি করে বাদ যাই। ২০১২ সালে যখন ব্লগাররা যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসির দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন তখন প্রথম ২ দিন বেশির ভাগ লোক এতে সাপোর্ট দিচ্ছিলেন। কিন্তু সাথে যখন ধর্মীয় লেবাস দিয়ে দেয়া হল তখন সবাই আমরা সরে আসলাম। আর বললাম সরকারী খিচুড়ী/বিরিয়ানি বিদায় নিয়েছে তাই সব ভেগেছে।
সাথে সাথে হেফাজত যখন ঘাটি গাড়ল আমরা সবাই ধর্মের ভয়ে নড়ার চূড়ান্ত করলাম। দেশের অর্থনৈতিক হেডকোয়ার্টার ছিল মতিঝিল এলাকা। সেখানে তাঁরা অবস্থানের সাথে ভাংচুর চালালেন তাতে খুব একটা দোষ হচ্ছিল না কারণ তাঁরা ধর্ম যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন। পরে রাতে ৫০০০-১০০০০  লোকের মৃত্যর খবর দিয়ে আবার অস্থিরতার চেষ্টা শুরু করলেন। তখনো আমরা খুব একটা কিছু বল্লামনা কারণ তাঁরা ধর্মের নামে যুদ্ধ করছে। এর আগে বাঙলা ভাই যখন শুরু হয় তখনো একই ভাবে সমর্থন দিচ্ছিলেন। 

আমরা এখনও ওদের সাফাই গাই। আরবিতে লিখে রাস্তাঘাটে মূত্রত্যগ বন্ধ করতে হয়। কারন কিছু বুঝি আর না বুঝি আরবি আমাদের ধর্মীয় ভাষা। আমাদের প্রধান আর একমাত্র  দেশপ্রেম হচ্ছে মুরগীর সাথে। মুরগীর কেনার সময় একমাত্র আমরা ভাবি দেশি মুর্গীরকথা। অন্যসব ভারতীয় পাখি দ্রেস বা পাকিস্তানি লন! হাস্যকর!

আমার লেখাটার শুরুটা ফেসবুকে অনেকেই প্রোফাইল ছবি পালটেছেন ফ্রান্সের গণহত্যায় নিহতদের শোক জানানোর জন্য। আর তার সাথে কিছু লোক শুরু করেছেন আপনি ফ্রান্সকে সমবেদনা জানিয়েছেন! কিন্তু ক্যান লেবানন বা কেনিয়া অথবা নরওয়েকে জানান নাই! আসলেই হাস্যকর আমরা নিজেরা অন্যের সমালোচনায় ওস্তাদ কিন্তু নিজের! জারাই সমবেদনা জানিয়েছেন তারা বাকিগুলোকে বলেন নাই এখন অন্তত বলছেন এটা অন্যেয়। এই লোকগুলি সিরিয়ার একটি বাচ্চার ছবিও শেয়ার করেছেন। সিরিয়া, ইরাক, লেবানন বা আফগানিস্তান সব দেশে অন্যায়ভাবে আগ্রাসন হচ্ছে। আর তা হচ্ছে মুসলমানদের একসাথে চলতে না পারার জন্যে। ও আইসি নামক প্রতিষ্ঠান মুসলিম দেশের প্রতিনিধিত্ব না করে তাঁরা সিরিয়ায় হামলার জন্য ইসরাইলকে অনুরোধ করে তখন বা সৌদিআরব যখন ইয়েমেনে হামলা করে তখন কটি মুসলমান দেশ প্রতিবাদ করেছে? 

তারপর বংগদেশে যখন চাপাতি সন্ত্রাস চালায় তখন আমরা কজন প্রতিবাদ করি! করিনা বরং সমালোচনার ঝড় তুলি। যাকে হত্যা করা হয়েছে তার রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজি। তিনি কোন দল করতেন তা ব্যের করার চেষ্টা করি আর তার চৌদ্দগুষ্ঠি না পারি তাকে উদ্ধার করে ছেড়ে দেই। আর হাস্যকর যুক্তি দেখাতে থাকি। এতে কি পরিবর্তণ করছি? 

September 01, 2015

জল ও ঢাকা ...

ঢাকার কথা উঠলে অনেকেই বলেন নোংরা শহর।আমি একে জাদুর শহর বলেই জানি। হাজার মাইল দুরে থেকেও প্রতিদিন  যে শহরকে অনভব করি।
আমার প্রথম চাকুরী ছিল একটা স্থাপত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে। আসাদগেটের কাছেই এর অফিস। প্রথম দিকটা ভালই ছিল। জুনের শেষে যখন শুরু হল বর্ষার দিন তখনি টের পেলাম হাড়ে এবং গোড়ে। একদিন দুপুরে বৃষ্টির জন্য অফিসে খিচুড়ি খেয়ে দেয়ে যখন সন্ধ্যায় ব্যের হতে যাব তখন ভুনা খিচুড়ির আমোদ অনেক দুরে পালিয়ে গেছে। তখন ভাবছি সাঁতার কাঁটা শুরু করব কিনা? আর তত দিনে যেহেতু শহুরে হয়ে গেছি সাঁতারটাও জানা আছে কিনা তাও ভুলেগেছি!! তার পরেও একিভাবে আমরা পার করেছি অনেকগুলো দিন। কারণ তার পরের চাকুরীটাও ছিল সেই ধানমণ্ডি ২৮ নাম্বারে। এখানেও একই অবস্থা।

আসলে ঢাকার জলের সাথে আমার যোগ ঢাকায় আসার পর থেকেই। ঢাকায় আসার পর থেকে দেখি এর শোচনীয় অবস্থা। তখন থাকা হত চামেলীবাগে। এমন অনেকদিন ছিল রিক্সার অপেক্ষা করে করে শেষে পা জোড়া চালিয়ে বাসায় ফিরেছি। এমনকি শান্তিনগর এলাকায় নৌকায় চড়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে। আগে শান্তিনগর বা ধানমণ্ডি ২৭ থেকে আসাদগেট পর্যন্ত পানি জমতে দেখা গেলে এখন প্রায় পুরো শহর পানি বন্ধী হতে খুব একটা সময় নেয় না... বৃষ্টির পানি নামার সব যায়গাগুলো আমরা বাড়ীর ভেতরে নিয়ে নিয়েছি। এই মেগাসিটির চার পাশের নদী গুলিকেও একি ভাবে দখল করেছি। তবে এমন হবে না তো এর চেয়ে ভাল কি করে আশা করবো?




ছবিঃ বিডিনিউস২৪ হতে সংগ্রহ করা।


আমরা কোন ময়লা ফেলার দরকার হলে ড্রেনে গিয়ে ফেলে আসি। সেটা কি ঐ ড্রেন বইতে পারবেকিনা তা ভাবি না। তার পর সরকারকে গালি দিতেও আমারা ছাড়ি না।

আজ প্রতিটি পত্রিকার পাতা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেভাবে ভেসে গেছে তা দেখে দুঃখ বা কষ্টের সাথে হাসিও পেল । দেখলাম কিছুদিন পূর্বে নির্বাচিত দুজন নগরপিতাকে ধুয়ে এখন রোদে শুকানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু রোদের অপেক্ষাছাড়া কিছু করার নাই। সাথে সাথে দেখলাম কিছুলোক বিভিন্ন বুদ্ধি দিচ্ছেন। এসব লোকজন চাইলে অনেক কিছু কোরতে পারেন কিন্তু তা না করে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই ঝড় তুলে যান। আরে ভাই আসেন না নিজেরা কিছু করে দেখাই! ময়লা গুলা ড্রেনে বা ম্যনহোলের ভিতর না ফেলে নির্দিষ্ট যায়গায় ফেলি! দেশটাতো আমাদেরই তাইনা!!! 

February 15, 2015

তেলের দামে তেল দেয়া... ...

আগে বাংলা সিনেমার মাতুব্বরদের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যখন দ্বন্দ্ব দেখা দিত তখন বলতে শোনা যেত যে তুই ঐ কাজ কর যত টাকা লাগে তা আমার। ড্যেইলি স্টার প্রত্রিকার খবর দেখে আমার এটাই মনে পড়েগেল। ঠিক তেমন শুরু করলেন মনে হয় আমাদের বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এর লোকজন।  তাদের ক্রয় কমিটি অপরিশোধিত জ্বালানী তেল কিনছে বিশ্ববাজার অপেক্ষা দ্বিগুণের চেয়ে প্রায় ১০ মার্কিন ডলার বেশী দামে। 

বিশ্ববাজারে যেখানে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে ৫০ মার্কিন ডলারের নিচে চলে এসেছিল তখন তাঁরা কি ঘুমাচ্ছিলেন, না সরকার কি মাল দরিয়া মে ঢাল প্রবাদ মানছেন। বিশ্ব জ্বালানী বাজারে মূল্য বিবেচনায় যেখানে গত ৬ বছরের মাঝে সবচাইতে কম মূল্যে যখন বিশ্ববাসী জ্বালানী কিনছি সেখানে এই সময়েও বিপিসি জ্বালানী মূল্য কমায় নাই, এতে যে কেউ ভাবতে পারেন তাঁরা সরকারের ভূর্তকী সমন্বয়ের ব্যবস্থা করছে। কিন্তু তাদের মূল্য সমন্বয় না করে মন্দার বাজারে সর্বোচ্চ মূল্যে কিনতে চাওয়াকে কি বলা যায়? দরপত্রের সময় বিশ্ববাজারে দাম ছিল ৮৬ আর আজ যখন এটা অনুমোদিত হয় তখন এর দাম ৫২ হতে ৫৬ ডলার। 

আমি অনেক সময় যাবত এর অর্থনৈতিক ব্যখ্যা খোজার চেষ্টা করলাম কিন্তু বাস্তব সম্মত কোন কিছু খুঁজে পেলাম না। হয়তবা আমার অর্থনীতি সম্পর্কে  অজ্ঞতাই এর কারন হবে। যদিও বিপিসির প্রধান নির্বাহীও কেন এই মূল্য সম্পর্কে কোন ব্যাখ্য দিতে পারেন নাই! 

আর আজকের ইউএস টুডে এর ও হিউস্টন ক্রনিক্যাল এর মতে গত দুই মাস যাবত অপরিশোধিত তেলের বাজারে চলতে থাকা মন্দার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তেল উত্তলন ও নতুন অনুসন্ধানের কাজ। আর এর ফলাফল হিসেবে সামনে বেড়েযাবে অপরিশোধীত তেলের মূল্য যা পূর্বের মূল্যের অর্থাৎ ১২০ হতে ১৩০ এর উপর চলে যাবে। তখন এই তেল বাংলাদেশের সরকারের কেনা সম্ভব হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব কি পড়বে তা কি বিপিসির কর্মকর্তারা ভেবে দেখেছেন?

বর্তমানের বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থবিরতার ফলে এমনিতেই সাধারণ জনসাধারণের মাঝে চাপা দীর্ঘশ্বাসের মত আটকে আছে আর এই উচ্চ মূল্যে ক্রয় করা তেলের দরুন যে মূল্যস্ফীতি হবে তা তে দীর্ঘশ্বাসটা দমবন্ধ করার অবস্থায় পৌঁছে দিবে।

Ref : http://www.thedailystar.net/govt-okays-oil-purchase-at-higher-than-global-prices-64357


February 11, 2015

নগর না দেবালয় ৫

বউ আমারে ফেসবুকে একটা ভিডিও শেয়ার করেছে। আমি লিঙ্কটা খুলে ভিডিও দেখা শুরুর সাথে সাথে শুরু হল তার কমেন্ট্রী। মাঝখান থেকে আমার ভিডিও বা বউ এর কথা কিছুই শোনা বা বোঝা হল না। 

দেশের অবস্থাও ঠিক এমন। সবাই বলছে। সবাই করছে। কিন্তু কোনটা শোনা দরকার তা কেউ ঠিক করতে পারছে না। কারন তারা (আম) জনতা। দেশটার মালিক তাঁরাই। কিন্তু সেটা মনে পড়ে প্রতি ৫ বছর পর পর। কারন তাঁরা ভোটের মালিক। আর ভোট দেয়ার পর পাঁচ বছরের জন্য মালিককে শীতনিদ্রায় পাঠানো হয়। মাঝে মাঝে হঠাত যখন আবার দরকার হয় তাকে ডেকে তোলা হয়, পুড়ে মরার জন্য বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের বাহিরে দেহে আরও এক বা একাধিক ছিদ্র উপহার দেয়ার জন্য। 

সমস্যা তবু সমাধান হয় না। তখনো খেলা চলতে থাকে, তাকে ভাগা ভাগি করার জন্য। ছোটবেলায় খেলতে যাওয়া ছোটছেলেটির ভাগ্যে যেই দুধভাত পদটি জোটে তাও পায় না তাঁরা। তবে দু দলের মাঝে সে পড়েই থাকে। তাকে টেনে  তুলার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। যেই এগিয়ে আসার কথা সেও আসতে আসতে কোন এক শিবিরে ঢুকে পড়ে, যে তকমাই লাগানো থাক তার গায়ে। সুশীল বা অন্য কিছু! 




February 02, 2015

নগর না দেবালয় ৪

এই করেছো ভাল নিঠুর হে 
এই করেছো ভাল
এমনি করে হৃদয়ে মোর 
তীব্র দহন জ্বাল... ... 


একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী। গুটি কতক চালাক লোকের পাল্লায় পড়ে ধ্বংসের মুখে। দেশের প্রধান দুটি টিমের হয়ে খেলে এই চালাক লোক গুলো। ইচ্ছে হলে কাবাব আবার কেউবা শিকার ধরে। কিন্তু সেই জনগোষ্ঠীর কপালের লেখন আর পরিবর্তিত হয় না। আবার মাঝে মাঝে দেশটা দান ও হয়ে যায়। কিন্তু মালিক যারা তাদের পোঁছে কজন। তবে কাবাবের চেহারাটা খারাপ হয় না। পরিমাণটাও নেহাতি কম না। তাতেও মন ভরেনা তাদের। হাড্ডি থাকলে কি কাবাবের মজা আছে?

শিকারির হাতের বন্দুকটাও মাঝে মাঝে ভুলে যায় কে তার মালিক। বা কার টাকায় কেনা। সে শুধু শিকার চেনে। কিন্তু শিকার হিসেবে যে মাঝে মাঝে মালিককেই ধরাশায়ী করেফেলে তা সে চেনে না। চিনবে কি করে? সে তো জানতে বা শুনতে পায় না কার টাকায় তাকে কেনা হয়েছে বা কেন এসেছে শিকারির হাতে!

পোড়াতে যে পেট্রোল লাগছে তা কেনার পেছনেও যে পুড়েযাওয়া মানুষটার অবদান আছে সেটা সে জানতে পারেনা। শুধু সে একটা সংখ্যা হিসেবে স্থান পায় পত্রিকার পাতায়।  আর তাকে নিয়ে কিঞ্চিত কান্না চলে। দু শিবিরেই দাবী উঠে সে তাদের। এমন কি তখন সে নিজের মালিকানাটাও দাবী করতে পারেনা। পুড়ে যাওয়া মাংসের আস্বাদ নিতে চায় সবাই।

কিন্তু সংখ্যাটা বেড়েই চলে। প্রতিদিন...  সকাল, সন্ধ্যা, রাত... সময় মানে না। পোড়া মাংসের আস্বাদ একবার পেলে তার কি অন্যকিছু ভাল লাগে? আমরা চালাক হবার চেষ্টা করি। আমারা সেই বড় জনগোষ্ঠী  নিজেরাই নিজেদের ঐ দলগুলির তাঁবেদারিতে লাগাই। 
এমনি করে হৃদয়ে মোর 
তীব্র দহন জ্বাল... ...





January 25, 2015

নগর না দেবালয় ৩

আজ একটি স্বাধীন দেশের বালককে কবর দিতে হবে পরিচয় হীন। সে আজ লাশ। প্রতিহিংসা বললে শব্দটিকে অপমান করা হয়। কিন্তু গলফ খেলা তখনো চলে। কারণ গলফ এর প্রতীতি বলের সাথে দেশের বিভিন্ন বড় বড় লেনদেন জড়িত। প্রতীটি কৃষক তখনো তার উৎপাদিত ফসল গো খাদ্যবানাবেন কিনা তা হিসেব করছেন আর খুঁজছেন সামনের ফড়িয়ার কিস্তি কিভাবে দিবেন।

তখনো আমাদের টাকায় কেনা পেট্রোল ব্যবহৃত হয় আমাদের জ্বালাতে। আর কফির পেয়ালাটা আবার ভরে উঠে। গল্পটা জমে উঠে সাথে সাথে। কিন্তু তাঁরা কেউ দেখতে পান না প্রতীটি কাঁপে একটু পোড়া চামড়া বা তলানিতে একটু চর্বি লেগেথাকে। যা একটু পর তার পেটে যাবে। না দেখতে না দেখতে তা পাকস্থলীতেও চলে যায়। তবু হুশ ফেরে না। গল্পটা চলতেই থাকে।


সাধারণ মানুষ একদিন দুদিন বাসায় থাকে। তাঁরা রাজনীতি বোঝে না। তাঁরা পেট বোঝে। তাদের দিন ফুরুলেই কয়েকটি পেটে দেয়ার নুন আর চাল কিনতে হয়। আর কিনতে গিয়ে হতে হয় জ্বলন্ত লাশ। সেটি কাবাব হিসেবে চলেযায় সুশীলদের পাতে। কিন্তু তবু তাঁরা পদলেহন চালিয়ে যেতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়র সর্বচ্চ ডিগ্রিধারী তিনি কিভাবে লেহন করেন একটা দালালের পা। তিনি কি করে ওদের পেছনে জি হুজুর বা অন্যকে দোষারোপ করেযান?

যাত্রাবাড়ী বা মিরপুরের লাশগুলো তখন একত্রিত হতে থাকে। ঢাকা মেডিকেলের মরচুয়ারীতে। তাঁরা ভাবে মিছিল করবে নাকি? কিন্তু সেখানে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা তাঁরা। লাশগুলো তখনো মিছিলের আগে ভাবে চালগুলো সিদ্ধ হল কিন্তু বাড়ির লোকগুলোকে কে পৌঁছে দেবে? আর এ ভাবতে ভাবতে তাঁরাও সিদ্ধান্তে আস্তে পারে না। আর তখনি তাঁরা নাম হারিয়ে সংখ্যায় পরিণত হয়। 

নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...