May 07, 2013

গনতান্ত্রিক হিজিবিজি ৩

উৎকণ্ঠার মাঝে যাওয়া দিন শেষ হলো। তারপরও থেকে গেল। সোসাল মিডিয়া, গুনিজন সবার মুখে একই কথা ৪৫০ থেকে ২৫০০০ আবার কেউ কেউ শুন্য বাড়ানোর প্রতিযোগীতায় মত্ত হয়ে ৫০০০০ বানিয়ে দিলেন। আমরা কখনো মৃত্যু কামনা করি না। অপঘাতে মৃত্যুতো নয়ই।

মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম তাদের ১৩ দফা দাবী নিয়ে যে তান্ডব চালাল তা কতটা যৌক্তিক সেটা সাধারন জনতা হিসেব করবেন। আমি এর মাঝে গত দুদিন ঘটেযাওয়া ঘটনার কিছু জিনিশ আর কিছু লোকের মন্তব্য নিয়ে কথা বলব। আজ সকাল অফিসের গাড়ীর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে খবর শুনছিলাম সাথে শ্রোতার বিশ্লেষন। " এত রাইত্তে অপারেশন চালাইছে মানুশ তো মরছেই, সব সরায়া ফালাইছে"। কিন্তু তারা কইতে পারলেন না কই সরাইছে। 

৭১ টেলীভিশনে একটা অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক জনাব মামুন একইভাবে বিবেচনা না করে দাবী করছেন যে ২৫০০ হেফাজতীর মৃত্য হয়েছে। তবে আল জাজিরা টেলীভিশনের খবর হল ৩৬ জন মারাগেছেন আরা তার নিচে কমেণ্ট এ মাহমুদ হাসান নামক একজন লিখেছেন যে ৩০০০জন মানুষ মৃত্যুবরন করেছেন। হেফাজতের বাবুনাগরী সাহেব ও একই দাবী করেছেন। প্রধান বিরোধী দলের বড়কর্তাগন এর সাথে গলা মিলিয়ে গায়েবানা জানাযা আদায় করেছেন। তার সাথে সাথে এক নেতা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন যা সঞ্চালক বন্ধ করে দিয়েছেন। 

কেন রাতে অভিযান চালিয়েছেন তার বর্ননা দিয়েছেন বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। ব্যাখ্যা দিয়েছেন। টেলিভিশন চ্যানেল কোনটি সাথে ছিল কেন ছিল জানিয়েছেন। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়েছে তা আমরা সবাই জানি কিন্ত মানতে রাজি নই। বিরোধী দলীয় নেত্রি বিভিন্নভাবে হেফাজত ই ইসলাম এর পাশে দাড়াতে চেষ্টা করেছেন কিন্তু ফলাফল শুন্য।

কেউ কেউ বলছেন বাইতুল মুকাররম মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় তান্ডব যুবলীগ চালিয়েছে। তবে হেফাজতের তো কোনপ্রকার বাধার নমুনা দেখা যায় নাই। তবে যুবলীগের কাউকে দেখার কথা কেউ নিশ্চিত করতে পারেন নাই। পাশেই আরোএকটি দলের অফিস কিন্তু তাদের কথা কেউ বলতে চাচ্ছেন না। তবে তাদের দিকেই আঙ্গুল তুলছেন বিবেকবান মানুষেরা। ব্যাঙ্ক, খাবার দোকান, ফুটপাতের হকার এর দোকান, ধর্মীয় বই পুড়িয়ে ৯০ ভাগ মুসলীমের দেশে এ কোন ইসলাম কায়েম এর স্বপ্ন?? 

তার মাঝে সকলেই যানেন তারা যা বলছেন তা সত্য নয় তথাপী কেন বলছেন? কারন তারা রাজনীতি করেন। আর যে সকল বাচ্চা মাদ্রাসার ছাত্র এসেছে এখানে যোগদিতে তারা জানেই না তারা কেন আসছে! বড় হুজুরগন কি পেয়েছেন তারা নিজেরা যানেন তাইবলে তারা ছাত্রদের ব্ল্যাকমেল করেছেন। এর জবাব আপনাদের দিতে হবে! 

তবে রাজনীতিবিদদের উপর বিশ্বাস তারা শুন্যের কোটায় নামিয়ে এনেছেন প্রায়। তারা এই গনিত শিক্ষার শেষ করবেন কবে তা জানি না। তবে সংখ্যা তত্তের কারনে সংখ্যাটা শংকাজনক হচ্ছে যার পরিনতি খুব খারাপ। আর তা সাধারন জনগনকে ভোগ করতে হবে।  

April 26, 2013

গণতান্ত্রিক হিজিবিজি -২

সব ডামাঢোল চাপা পড়ে গেছে  পচন ধরা ইট আর পাথরের নিচে। গত চারদিন যাবত চাপা পড়েও মাঝে মাঝে উঠতে চাচ্ছে। আবার যুদ্ধ শুরু হয়ে হয়ে হয় না। একটা গ্রুপ ফেসবুকে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কথার যুদ্ধ। তারা ভাল বলতে পারেন, তাদের কথায় রক্ত ঝরার মত করে কথাও ঝরে। 

আমরা আমজনতা সকল সময়ই আম। আগের রাজাদের ক্ষেত্রেও ইতিহাসে লেখা আছে সেসব বা রাজাদের বাড়িতে গেলে আম দরবারের জন্য আলাদা যায়গা দেখলেও বোঝা যায়। আমাদের দেশেও একই অবস্থা। সকল অবস্থায় আইন আছে তবে তা কেবল মানা লাগে আমাদের আম/সাধারন মানুষের। আমাদের জন্য ডান্ডাবেড়ী সব সময় তৈরি থাকে। কিন্তু যাদের ছো্য়া দরকার তাদের ছোয় না। 

সাভার যায়গাটার সাথে অনেকভাবে জড়িত। প্রায় আটবছর এই এলাকার উপর দিয়ে আসা যাওয়া করেছি। আর দেশব্যাপি যেই যায়গা নিয়ে কথা চলছে তার ডোবায় জমতে দেখছি ময়লার পাহাড়। আরা তারপর গজিয়ে ওঠা সেই রানা প্লাজা। ভালই লাগছিল সাভারের উন্নতি দেখে। আস্তে আস্তে সাভারে আরো কিছু শপিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। শহর তলি থেকে প্রায় উপ শহর হয়ে উঠেছে এখন সাভার। 

আর সেই গজিয়ে উঠা রানা প্লাজা নিয়ে নিলো ৪ শতাধিক প্রান। তার পর যথা নিয়মে শুরু আমাদের রাজনীতির পথ চলা। কেউবা সরকার ফেলেছে আবার কেউ বলতে থাকেন বিরোধী দলের ঝাকিতে পড়েছে। কিন্তু তার মাঝেও সাধারন মানুষ উঠে এসেছে রাজনীতি উর্ধে। নিজের প্রান বাজী রেখে বাচাতে লাগলেন তারা একের পর এক প্রান। এভাবে প্রায় ২৪০০ এর অধিক প্রান আবার ফিরে আসে ধরনীর ছায়ানীড়ে। 

ডাক্তার এনাম তাদের মাঝে একজন যিনি পেশকে নিয়েগেছেন সত্যিকার মানবতার জন্য। তা খুব কম ডাক্তার ই করেন। তার মাঝে প্রাইভেট হাস্পাতাল ভিতি আমাদের সবার আছে। তারা পেশাকে যেখানে নিয়ে পৌছেছেন ডাকাতির পর্যায়ে তার থেকে মুক্তি দিলেন। বিনা খরচে নিজেদের ফান্ড থেকে খরচ শুরুর মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়েছেন আহতদের। ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছেন প্রান বাচাতে। আমার শ্রদ্ধা আপনাদের।

সাভারের চারটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা যারা মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন তারা সবাই আমাদের নষ্ট রাজনীতির বলি ছাড়া কি অন্য কিছু?

এর মাঝেও আমাদের নষ্ট রাজনৈতিক নেতারা ভোটের ব্যাঙ্ক খুজছেন। তবে স্বাভাবিকই মনে হয় আমার এসব কিছু। রাজনীতির মার প্যাচেইতো মরল এই লোকগুলো। শাহীনাকে উদ্ধার করতে পারেনাই তাই আবুলখায়ের বা এজাজ কাদেন। কিন্তু নেতারা ভাবেননা সেসব কিছুই। দেড়বছরের বাচ্চাটা আর মাকে পাবে না বাবাতো পরপারে গেছেন বছর পেরিয়ে গেল। আশ্চর্যান্বিত হই যখন দেখি কেউ কেউ সাহায্য ঘোষনা করেন মোবাইল অপারেটরদের শেখানো পদ্ধতিতে। নিচে স্টার দিয়ে শর্তপ্রযো্য্য এর মত করে। শর্তটা হল তাদের ক্ষমতার নরম গদিতে বসাতে হবে।

আর কতকাল এমন চেয়ে দেখবো আমরা! আর পিঠইবা কত দিন পেতে দেব ভোট ভিক্ষুকদের জন্য??? 

April 10, 2013

গনতান্ত্রিক হিজিবিজি ১


কিছুদিন গনতন্ত্রের(তবে আমারা জানা নাই এটা গনতন্ত্র না অন্য কিছু) জন্য যেই তান্ডব চলছে তা কত দিন চলবে সেটা স্রষ্টা ভাল জানেন। কারো কারো মতে ১০০ কারো মতে ১৭০ কিংবা কারো মতে তারো বেশী লোক মৃত্যুবরন করেছেন। কিন্তু কেন? 

সবার আগে ভোট, তারপর ভোট এবং তার পরও ভোট। তার পর জনগন এর যদি কোন দাবি দাওয়া থাকে তা আসতে পারে। তবে বেশীর ভাগ সময় আসে না। আমরা বাংলাদেশীরা খুব মনে করি হরতাল আমাদের মৌলিক গনতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু হরতাল এর মাধ্যমে কোন দাবি সুষ্ঠভাবে আদায় হয় বলে আমি মনে করিনা। ১৯৪৭-১৯৭১ সময়ে যে হরতাল ছিল সর্বসম্মতির বর্তমানে কি তা প্রতিফলিত হচ্ছে? আমরা ভয়ে বের হচ্ছিনা বাড়ি থেকে তার মানে কি হরতাল সফল?

ভারতবর্ষে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ইতিহাস বহু পূর্ব থেকে। বারবার এখানে আক্রমন হয়েছে ধর্মীয় কারনে। ইংরেজ আমাদের ২০০ বছর শাসন করেছে এই ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমেই। তারা তাদের ধর্ম প্রচার করেছে। তাছাড়াও মুসলিম হিন্দু এই দু ভাগের কারনে আরো বিভিন ফায়দা লুটেছে তারা। আমরা কি পেয়েছি তা থেকে? শুধু পিছিয়ে পড়া ছাড়া। তারা শেষ কাজটা করে গেল ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারত বিভাজনের মাধ্যমে। মাঝখানে পড়ে আমরা চিড়েচ্যপ্টা।

স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষ যখল লড়ছিল তখনো চলছিল অপপ্রচার। তাও ধর্মীয় ভিত্তিতে। এইদেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ যেখানে মুসলিম সেখানে হিন্দুত্তের ধোয়া তুলে বারবার অত্যাচারের স্বীকার হতে হল। আবার ৪২ বছর পর একই ধোয়াশা আমাদের পিছুনিল। সেই একই গোষ্ঠী। ধর্মীয় মৌলবাদ, নাস্তিকতাবাদ, আর ব্লগার এই তিনটি জিনিষ জুজু বুড়ীর মত চেপে বসলো আমাদের ঘাড়ে। আমাদের একটা গ্রুপ ধর্ম আর ব্লগ/ফোরামকে মিলিয়ে ফেললেন একসাথে। কোনটি কি তা না জেনেই। রাজনৈতিক দলগুলো ও ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে দৌড়ঝাপ শুরু করল। কিন্তু ফল হল কি?

পুজিঠিকই ৭১ এর দোশরদের রয়ে গেল। তাদের বিচার ধামা চাপা পড়ার পর্যায়ে চলে গেল। বর্তমান সরকারকে ম্যান্ডেট দেয়া হয় এই বিচারের জন্যই। যেহেতু বিরোধী দলের সাথেই রয়েছে এই ধর্ম ব্যবসায়ী গ্রুপ তাই তাদের বাচাতে বিরোধী দলও শুরু করল দৌড়ঝাপ। মাঝখানে কিছু ছেলেমেয়ে যারা প্রগতিশীল তারা আন্দোলন করতে গিয়ে নাস্তিকতার বিষ বোঝা মাথায় নিতে হল।  আমরা ধর্মীয় দিকে দুর্বল। কিন্তু তাই বলে এ নিয়ে ভাববনা তাকি ঠিক। শাহবাগ এ বসে গান গাইলাম আর ব্লগিং করলাম তাতে কি সকলেই জানবে যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যে!

রাজনৈতিক বিষবাস্প ছড়াচ্ছিল কিছু পত্রিকা আর এক বা দুটি টেলিভিশন চ্যানেল। কিন্তু সরকার ও চুপচাপ। আসলেই কি চুপচাপ? তারা অলৌকিক কিছু স্ট্যান্টবাজী করছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলছেন না গুটি কয়েক তরুন বাদে।

মূল আন্দোলন এখন হারানোর পথে। এখন চলছে আবার নতুন আন্দোলন। নাস্তিকতামুক্তির আন্দোলন। প্রায় ৮৫ ভাগ মুসলিমের দেশে আজ ইসলাম হেফাজতের নামে চলছে আন্দোলন। যদিও এখনো সময় আসেনি এ বিষয়ে মন্তব্য করার।

March 14, 2013



আজ ভাবনাটা হঠাৎ মাথায় আসা নয়... কিছুদিন পূর্বে ইন্ডিয়া ভ্রমনে যাই তখনকার ভাবনা এটা। মহাত্মাগান্ধীর বাড়ি এখন যা জাদুঘর হিসেবে পরিচিত তা দেখতে দেখতে এক বাংলাদেশি সরকারী কর্ম কর্তার কথা শুনে মাথাটা কিছুটা চিড়বিড়িয়ে উঠেছিল। আমি কোন দলের সমর্থক নই। কিন্তু আমি আমার দেশের মুক্তি যুদ্ধের সাথে যারা যুক্ত তাদের সবাইকে সম্মান করি। সম্মান করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে। যিনি ডাক দিয়েছিলেন স্বাধিনতার। আমি সেই সরকারী কর্মকর্তার কাছে প্রশ্ন করেছিলাম আপনি কি বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে এখানে আসছেন?? তিনি হ্যা বলতেই জিজ্ঞেস করলাম এই স্বাধীনতার জন্য কত লোক প্রান দিসেন যানেন?? তিনি বললেন ৩ লক্ষ। তখন  আমার কথা বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম। এর তো বাংলাদেশের সরকারী চাকুরী করার যোগ্যতা নাই মনে হলো। আমি তর্কে গেলাম না। তাকে শুধু বললাম আপনি জেনে নেবেন দয়া করে। শুধু এটুকু বলি ২৭৯০০০ মা/বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আপনার পাসপোর্ট পেয়েছেন... দয়াকরে সামলে রাখবেন। আর ওদের কথা স্মরন রাখবেন।  যেহেতু শহীদ মাত্র ৩ লক্ষ বলছেন তাই চিন্তা করলাম তার বোঝা আমরাই রাখি। সেই কর্মকর্তাকে কোনবোঝা দেবার দরকার নাই...


আজ এক ব্যাবসায়ী বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবল্টু  বলছিলেন বার বার করে। তাই তাকে আমার খুব বলতে ইচ্ছে করছিল। আপনি আজ শান্তিতে ব্যাবসা করছেন এই বঙ্গবল্টুর জন্যই। তিনি ডাক নাদিলে এতদিনে দেশ স্বাধীন হত না। তিনি মহৎ হৃদয়ের অধিকারী না হলে রাষ্ট্রক্ষমতা দ্বারা নিজের পরিবারের জন্য অনেক কিছু করে যেতেন। ভারতীয় র এর সাবধান বানী শুনে বুলতেন না ওরা আমার ছেলে আমায় মারতে যাবে কেন? তিনি যে কবছর বেচেছেন তার অর্ধেকের বেশী সময় তিনি গজেলে কাটিয়েছেন তার সবই এই অকৃতজ্ঞ আমাদের জন্য।

 বর্তমান আওয়ামীলীগ ও তার জোট সরকার কিভাবে সরকার চালাচ্ছেন তা তাদের উপর বর্তায়। তাই বলে কেন আমি সেই সূর্য সন্তানকে গালী দেব?? বা তার সেই ত্যাগকে কেন অস্বীকার করব?? তাকে গালী দেব কেন?? আজ আমি অকৃতজ্ঞ হলে আমার পরবর্তী প্রজন্মকি আমার উপর সমান ভাবে দোষ চাপাবে না!!! 

March 11, 2013

ভোতা অনুভুতির কথা...

কিছুদিন যাবত পত্রিকার পাতা খুললে খুন আর ধর্ষন এর খবর দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত। আমরা এত নির্লিপ্ত হয়ে গেছি। এর কোনটির প্রতিবাদ হচ্ছেনা। আইনশৃংখলা বাহিনী চেয়েও পারছে না এটা ঠেকাতে। এমন নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য কি আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দায়ী? না আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতা দায়ী?
 শিক্ষক নামের কলঙ্ক পরিমলের ছাত্রী ধর্ষন, রাতে ডিউটিকালীন ধর্ষনে ব্যর্থ হয়ে ডাক্তার ইভা হত্যা, টাঙ্গাইলে বান্ধবীর সহায়তার ধর্ষন, কাপাসিয়ায় সাংসদ রিমির পিএস কাজল কর্তৃক গৃহপরিচারিকা ধর্ষনসহ অনেক ধর্ষন ঘটছে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে। কিছু আসছে মিডিয়ায়, কিছু অজানাই থেকে যাচ্ছে। কিন্তু এসব ধর্ষনের ঘটনার কি বিচার হয়েছে? মানুষ যদি অপরাধ করলে শাস্তি না পায়, সেখানে এধরনের অপরাধ বাড়বে না তো কি কম্বে??? ধর্ষনের সর্বশেষ ন্যাক্কার জনক ঘটেছে  মানিকগঞ্জে, যেখানে চলন্ত বাসে হেলপার ধর্ষন করেছে এক গার্মেন্টস কর্মীকে।
এই ঘটনাগুলোর শেষ কোথায়? আমরা কি প্রতিবাদী হব না? এমন ঘটনাতো আমাদের পরিবারের সদস্যদের সাথেও ঘটতে পারে???? আমরা চরম স্বার্থপর জাতি, নিজেরা পরিস্থিতির শিকার না হলে বোধদয় হয় না। ধর্ষকদের শাস্তির দাবীতে সোচ্চার হোন, লাগাম টেনে ধরতে হবে, নইলে আমাদের পরিবারের মেয়েরাও নিরাপদে থাকবে না।

May 03, 2012

শব্দটা কিসের???

শুব্দ শুনছেন?? টুং টাং করে বার বার করে প্রতিদ্ধনী হচ্ছে। বার বার বেজে যাচ্ছে। এটা কি কোন বৃহৎ পতনের শব্দের রিহার্সেল? না কোথাও পেরেক ঠুকার রিহার্সেল এটা! 

গত ৩ মাস যাবৎ একটা সরকারী বিদ্যায়তনের ছাত্র/ শিক্ষকগন তাদের সামান্য কিছু দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু এর ফলাফল কি হচ্ছে? তাদের হঠাৎ হঠাৎ কিছু উত্তম মধ্যম এর শিকার হতে হচ্ছে। বিদ্যায়তনের প্রধান এর জন্য কমিটি গঠন করছেন বলছেন আবার মারের ব্যাবস্থাও রেখেছেন। আর এসবের জন্য যাদের ব্যাবহার করতেন তারা মাঝে মাঝে একটু আধটু বেশী( সেই একটু কত টুকু ঠিক জানি না)দিয়ে ফেললে কেউ কিছু বলতে পারেনি।

যোবায়ের যার দুর্ভাগ্যের দরুন এসেছিল এমনই এক বিদ্যায়তনে। ইচ্ছে ছিল একদিন সে এই বিদ্যায়তনের গন্ডী পার হবে। দেশের শ্রেনীগত চাকুরীর মাঝে হয়ত একটা বেছে নেবে। কিন্তু তা হওয়ার আগেই তাকে গণ্ডী পার করে দেয় সে সব পালিত লোকজন। আসলে শুধু গন্ডী বলাটা ভূল পৃথিবী এর গন্ডী পেরীয়ে হয়তো কোন একটা নক্ষত্র এখন সে।



যোবায়ের এর মর্মান্তিক প্রস্থানের সাথে যারা জড়ীত তাদের প্রথমে বাচানোর আপ্রান চেস্টা করেন শরীফ এনিমেল কবির নামক জনৈক প্রধান শিক্ষক। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের কাছে তার চেষ্টা বাধ ভাঙ্গা ঢেউ এর মত করে ভেসে যায়। সাথে যোগ হয় দানা বাধা ক্ষোভ।

এই প্রধান শিক্ষকের সময়টাতে যোগ হয় ক্যাম্পাসে গাছ কাটা, সাংস্কৃতিক সংগঠন বন্ধ, আর নিরাপত্তা কর্মকর্তার দ্বারা ছাত্রছাত্রীকে নির্যাতন এমন কি পুরাতন ছাত্রছাত্রীদের অপবাদ দিয়ে নির্যাতন। স্নগস্কৃতিক কর্মকান্ডেরসাথে যারা জড়িত তাদের কিঞ্চিত মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো!

আজ যখন দুপুরে দেখলাম বিডি নিউজে প্রধানমন্ত্রির আশ্বাস মনে হলো আমি আবার টুং টাং শব্দ শুনলাম। খট খট খটাস শব্দের। শবটা কি তবে খুব শীঘ্রি বাক্সন্ধী করা যাবে!


এই শব্দটা কি তবে কফিনে পেরেক ঠুকার!




April 28, 2012

পুর্বের কিছু ছবি ফেরত চাই!

পত্রিকায় আগে খবর আসত ক দলের ছাত্রনামী মাস্তান দ্বারা খ দলের ছাত্র লাঞ্চিত। কিন্তু কদিন আগে খবর দেখে চক্ষু চড়কগাছ না হলেও কিছুটা উপরে উঠে আবার নেমে আসল। মনে মনে ভাবলাম এমনইতো হবার কথা ছিল। কিন্তু এটাকে মনে হলো প্রবোধ দেয়া ছাড়া আর কিছু নয় ।

ছবিঃ সংগৃহীত

ক্যাম্পাস স্থায়ীভাবে ছেড়েছি সেই ২০০৮ সালে। তথাপি একটু ছুটি পেলেই দে ছুট! তাছাড়া এমন অনেক দিন গেছে ভোর ৬ টার দিকে গিয়ে পাখি দেখে আবার ৮ টার মাঝে ফিরে এসে অফিস ধরেছি। এটা নেশার মত হয়ে গেছিল। এখন সময়ের অভাবে যাওয়া কমে গেছে। ঢাকার বন্ধুরা মাঝে মাঝে বলত তোরা কি পাস ক্যাম্পাসে? মুচকি হাসি দেই তা থেকে কি বোঝে জানি না, চুপ করে যায়।

ইদানিং ক্যাম্পাসে গিয়ে আগের অনেক জিনিস খুজে পাই না। প্রান্তিক যাওয়ার সময় কিছু ফুল দেখা যেত, যা এখন আর নাই! জঙ্গল পরিস্কার করা হয়েছে! সাপ, খোপের বাসা হয়েছিল তাই পরিস্কার রাখা হচ্ছে। জাহানারা ইমাম হল হতে ডেইরীগেট পর্যন্ত রাস্তার মাঝের কাঠাল বাগানে ঘাস নেই আর। উন্নত মাটি তাই হলুদ চাষ করা হয়েছে। শীতকাল গেল পাখির কলকাকলী শোনাগেলনা ক্যাম্পসের লেকে। কারন লেক পরিষ্কার করে এখন মাছ চাষ করা হচ্ছে। টাকাতো আসছে! পাখি থেকে তো কোন লাভ আসে না! বরং ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে! তাই নয় কি! কৃষ্ণচূড়া গাছথেকে কাঠ হয়না তাই কেটে ফেলা উচিত! আমার ক্যাম্পাস কোন ব্যাবসা ক্ষেত্র নয় যে ক্যাম্পাসের যায়গা বা লেক লিজ দিতে হবে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রলীগের শরীফ, শাকিল, সম্রাটের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন নেতা-কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কলি মাহমুদকে মারধর করে। এ সময় কাছেই অবস্থন করছিলেন সহকারী প্রক্টর সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু। এরপর ছাত্রলীগ কর্মীরা রড, পাইপ, হকিস্টিক ও লাঠি নিয়ে টিএসসি এলাকায় নাটকের মহড়ারত সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সাংস্কৃতিক রাজধানীতে সংস্কৃতির চর্চা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। কিছু ক্ষেত্রে নিশেধাজ্ঞা, কিছু ক্ষেত্রে অনুদান না পাওয়া বা কখনো কখনো চর্চাস্থান না পাওয়া এই রাজধাণীর বুকে শেষ পেরেক ঠোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু তারা সফলকাম হবে কি?? 

ছোটবেলা থেকে যখন পড়তে শিখেছি তখন শোনা যেত শিক্ষক হলেণ পিতার মত। কিন্তু আসলে কি তাই?? যখন দেখবেন আপনি ক্লাসের জন্য অপেক্ষারত অথচ আপনার শিক্ষক রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে ব্যাস্ত ক্লাস নেয়ার সময় নাই, বা তিনি অন্য শিক্ষকের গায়ে হাত তুলে পুলিসের দাবড়ানিখাচ্ছে অথবা যখন তিনি এই তাদের সামান্য রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য বা কাউকে রক্ষা করতে বা কাউকে মারতে ব্যাস্ত তখন কি বলবেন তিনি পিতার সমতুল্য অভিবাবক? 

তাছাড়া  সংবাদপত্রে যখন সংবাদ হচ্ছে আমাদের এই ক্যাম্পাস খারাপ লাগে না! কিন্তু সেই খবর যখন খারাপ হয় তখন?? যখন দেখি দুজন শিক্ষক মিলে আরেকজন শিক্ষকের গায়ে হাত তুলছে। আর তার জেরধরে দুজনকে হাজতঘরে চোরদের সাথে রাতকাটাতে হচ্ছে!  আমি নই শুধু! বাকি সবারই খারাপ লাগে। কেউ বলতে পারবে না যে তার ভাল লাগে। 

গত ৯ জানুয়ারি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ ছাত্রলীগের হাতে খুন হওয়ার পর থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একপ্রকার অচল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। তারপর শিক্ষক সমিতির দুপক্ষ মারামারি করে ক্লাস বর্জন চলছে প্রায় দুমাস যাবত। এ দুমাসের জের দিতে হবে প্রত্যক ছাত্রকে ছমাস (নিদেনপক্ষে) জ্যামের মাধ্যমে। 

আমি বা আমরা কেউই ক্যাম্পাসে শুনতে চাইনা গুলির আওয়াজ। আমরা চাইনা দেখতে কারো রক্তাক্ত ছবি! আমরা পড়তে চাইনা আমার কোন ছোট ভাইএর মৃত্যুর খবর। আমি আবার ক্যাম্পসে শুনতে চাই পাখির গান। দেখতে চাই দুটো টিয়া ঘর বেধেছে শিরিসের ডালে বা কিছু হট্টিটি চড়ে বেড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু হল মাঠে, দুটো শিয়াল বসে রোদ পোহাচ্ছে বোটানিকাল গার্ডেনের গেটের পাসে। বা কিছু দাড়াস সাপ বেজীর সাথে যুদ্ধ করছে। শুনতে চাই প্রজাপতি মেলা বা পাখি মেলা হচ্ছে ক্যাম্পাসে। কালিকলম পুরস্কার পাচ্ছে ক্যাম্পাসের নতুন কোন সাহিত্যিক। 


April 10, 2012

খাদ্য নিয়ে অখাদ্য ...

গতকাল সন্ধ্যায় খবর দেখতে গিয়ে দেখলাম র‍্যাব এর ম্যাজিষ্ট্রেট আনোয়ার পাশার সাক্ষাতকার পাশে কিছু মুরগি হাতে একজন লোক দাঁড়িয়ে। কিছু সময় পর শুনলাম লোকটি মড়া মুরগির ব্যাবসা করে। আর তার খদ্দের হচ্ছে ঢাকার নামকরা কিছু রেস্তোরা। ভালই মনে হচ্ছে শুনে! খারাপ কিছু নয়! সকল ধর্মেই আছে অপচয় কারি শয়তানের ভাই। তাই মরেছে তো কি হয়েছে? মানুষ তো জীবন্ত মুরগি খায় না!!! 

আমরা কি খাচ্ছি?? মরা মুরগি, চক পাউডার, কাপড়ের রঙ। নতুন নতুন আইটেম যোগ হচ্ছে খাবারে। মানুষ বাড়ছে সেই সাথে খাবারের যোগান ও তো বাড়াতে হবে! তাই আমরা সর্বভূক মানুষ সব কিছুকেই আহার্যের মাঝে নিয়ে আসছি। সামনে যে আরো কতো কি অপেক্ষা করছে তা একমাত্র স্রষ্টাই জানেন। 
 ছবিঃ মরা মুরগি সহ দোষী ব্যাক্তিগন ( ছবিঃ সংগৃহীত)
এই মর্তধামে মনে হয় আমরাই একমাত্র দেশ যারা খাবারেও ভেজাল মেশাই। আর এই ভেজাল মেশানোর শাস্তি সামান্য অর্থদন্ড আর কিছুদিন সশ্রম/বিনাশ্রম কারাদন্ড। কিন্তু এই শাস্তি কি আসলেই কোন কাজে আসছে?? এই ভেজাল মেশানো খাবার খাওয়ায় মানুষকে ভুগতে হচ্ছে বিভিন্ন ব্যাধিতে। ক্যান্সার, কিডনি নষ্টহয়ে যাওয়া, লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়া আরো অনেক রকম ব্যাধিতে পড়তে হচ্ছে। 

গতকাল আরেকটা খবর দেখে আরেকটু অবাক হলাম। আইডিয়াল নামক এক কোম্পানী বিভিন্ন প্ন্য বাজার জাত করে BSTI এর অনুমতি ছাড়া। আর তার বেশিরভাগ তৈরি হয়েছিল চক পাউডার বা কাপড়ের রং দিয়ে। তার ব্যাবস্থাপক এর মাত্র এক মাসের হাজতবাস আর ২লাখটাকা জরিমানা হয়। সাথে মিনাবাজার, আগোরা আর স্বপ্ন তিনটি দোকানকে এক সাথে জরিমানা করা হয়েছে এসব ভেজাল বিক্রির দায়ে। এই তিন জনের স্লোগান অনুযায়ী তারা সবাই ফ্রেশ জিনিশ বিক্রির সাথে জড়িত। অনেকের মতে এখানে দাম একটু বেশি নেয় কারন তার ভাল জিনিষ বিক্রির সাথে জড়িত। তবে কোথায় নিরাপদ আপনি বা আমি?? আমার বা আপনার বিশ্বাস ভাঙ্গার জন্য কি তাদের আরো বেশি স্বাস্তি হওয়া উচিত নয় তাদের??

ভেজাল খাদ্য খাওয়ানো আর মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া কি এক ধরনের হত্যা নয়? তবে এর শাস্তি কেন একবছর বা দুবছর এর জেল বা নামকাওয়াস্তে জরিমানা হবে? আর এর বিক্রির সাথে জড়িতদের শাস্তির পরিমান আরো বাড়ানো উচিত নয় কি?? 

 এই আইনটার বেপারে নতুন করে ভাবার সময় হয়নি কি??




March 30, 2012

এবং জল ২


ছোটবেলায় বহুসময় নিয়ে মুখস্ত/আত্মস্ত করেছি পানির অপর নাম জীবন। সেটা কালে কালে পরিবর্তিত রুপ নিয়ে এসেছে বিশুদ্ধপানির অপরনাম জীবন। ঢাকায় আমরা এর কোনটা পাই???

শুস্কমৌসুমে আজ শনির আখড়া কাল তেজকুনি পাড়া পরশু মিরপুর জুড়ে চলে অবরোধ, ভাংচুর। কিন্তু যার জন্য সেই ভাংচুর সেটা তাদের পাওয়া হয়ে উঠে না। পানির ঘাটতি থেকেই যায়। যার টাকা আছে সে ওয়াসার কাছ থেকে পানি কিনে দৈনন্দিন কিছু কাজ করতে পারেন কিন্তু পানযোগ্য করতে চালাতে হয় রিতিমত কসরত। গ্যাসের চুলায় সেদ্ধ তার পর আবার ফিল্টার করা তার পর পান করা। আমরা এই দরিদ্র দেশের নাগরিক হিসেবে সরাসরি কলথেকে সাপ্লাইকৃত পানি পান করার মত সৌভাগ্যবান কি ?


বাংলাদেশে ৫০০ মিলি দুধের দাম ২৫ টাকা আর ৫০০মিলি বোতলজাত পানির দাম ১৫ টাকা। ঠিক একবছর আগে এই পানির দাম ছিল ১০ টাকা। মুল্য বেড়েছে ৫ টাকা। গত কাল দেখলাম পানি বিলাস দ্রব্যের ঘরে পড়েছে। তাই এর উপর নবরূপে ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপিত হবে। এই ভাগ যারা করছেন তারা কি আসলে বিলাস দ্রব্য চেনেন??

জীবন বাঁচাতে পানি কিনতেই হবে তবে জীবনটা কি একটু বেশী দামী হয়ে যাচ্ছে না??? নাকি বিলাসিতা ছাড়ার সাথে সাথে জীবনকেই ছেড়ে দেবেন!!!

March 10, 2012




ছবিটিআজই তোলা। রাপা প্লাজা সিগনাল থেকে। বহু সময় যাবত দাঁড়িয়ে দেখছিলাম কেন জ্যামএখানে। কিছু সময় পর খেয়াল করলাম দুটি পিকাপ ভ্যান দাঁড়ানো একটি মালামাল বোঝাই।অপরটি খালি। দাঁড়ানো ঠিক ২৭ নম্বর এর মুখে। অথছ এখানে গাড়ী দাঁড়ানো নিষিদ্ধ।




আর এইদুটি গাড়ীর কারনেই জ্যাম। কারন একজন ড্রাইভারের কাছে টাকা নেই আরেকজন টাকা দিতেচাইছেন কিন্তু মনঃপুত হচ্ছে না। অথছএদিকে জ্যাম বেধে মিরপুর রোড আর ২৭ দুদিকই বন্ধ। কিন্তু বিকার নেই তাদের কারো। শেষে একজনকে নিয়ে এক ট্রাফিক চলেগেলেন অন্য কোথাও।আরেকজনের বিরুদ্ধে কেস করলেন।

March 07, 2012

ও নদীরে তুই যাস কোথা রে ৪


কালিগঙ্গাকে হারিয়ে যেতে দেখছি গত কবছর যাবত। ২০১৩ সালে হয়তো এসময় গিয়ে কিছু স্থানে পুকুর সদৃশ কিছু গর্ত পানিধারন করে আছে তাও দেখতে পাবনা। গত বছর এখানে ক্ষীন ধারা দেখেছি। 
কালিগঙ্গার উপর নির্ভরশীল প্রচুর পেশাজীবী পরিবর্তন করেছে পেশা। এখন এখানে নতুন পেশাজীবীর আগমন ঘটেছে। আগের জেলে, মাঝী এখন নেই। কারন পানির উপর তাদের জীবিকা নির্ভর করতো। আজ পানি নেই, তাই তারা পরিবর্তন করেছে পেশা। পেশা রিফিউজি এর দলে যোগ দিয়েছে আরো কিছু মানুষ। 


 যাযাবর জাতি এখন আর পানিতে নৌকায় নাগিয়ে নদীর বালুচরের বাসা বেধেছে।

এখন আর পালতোলা সওদাগরি নৌকা দেখা যায়না। সওদাগররাও পাল্টেফেলেছেন নিজেদের। এখন ভটভটি চালিয়ে পরিবেশ দুষন ঘটিয়ে তবেই সওদা ফেরী করেন। যেখানে পানি আছে তাতেও ভটভটির দৌরাত্ত। নৌকায় শ্যালো ইঞ্জিন লাগিয়ে নিচ্ছেন তারা। কিন্তু কালিগঙ্গায় আর নাও চলার প্রশ্ন ওঠেনা। কারন আজ কালিগঙ্গা বালির নদী। এখানে এখন ট্রাক আর লরির দৌরাত্ত। তার সারাদিন কাজে ব্যাস্ত। নদীর ওপর যে বালীর স্তর পড়েছে তা নিয়ে ব্যাবসা আজ রমরমা। কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখেছি আজ আমাদের কি নেই?


 দুরে মরিচিকার মত পানির দেখা।
মা এখন আর ঘাটে দাড়ান না আচল মুখে! মেয়ে তার নাইয়র আসবে বলে! মেয়ে এখন বরের ইঞ্জিন চালিত দ্বিচক্রযানে চড়ে আসে। এই আসাটা সহজ হয়েগেছে আজ। তবু আমাদের কি যেন নেই?


 এখন সেতুর প্রয়জনীয়তা ফুরিয়েছে বলা যায় কি??
বর্ষার বৃষ্টিভেজা দাপাদাপি আর নেই। ছোট্টবেলা পেরিয়ে আমরা আজ বড় হয়েছি। গড়েছি যান্ত্রিক সমাজ। যোগাযোগ ব্যাবস্থা আজ উন্নত।  কিন্তু আমরা কি যেন হারিয়েছি!!
 এখন নদী

 এখন নদী
আজ আমার বাড়ির উঠোনের গাছগুলো সবুজ পাতা ছাড়ছে কিন্তু তাতে বালির প্রলেপ। বা পাশের ইটের ভাটার ছাই এর কাল প্রলেপ। আমি আজ নাগরিক। তবু আমারা কি যেন হারিয়েছি!!!


তবুও কি বলব যে আমরা সচেতন হয়েছি??

নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...