সব ডামাঢোল চাপা পড়ে গেছে পচন ধরা ইট আর পাথরের নিচে। গত চারদিন যাবত চাপা পড়েও মাঝে মাঝে উঠতে চাচ্ছে। আবার যুদ্ধ শুরু হয়ে হয়ে হয় না। একটা গ্রুপ ফেসবুকে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কথার যুদ্ধ। তারা ভাল বলতে পারেন, তাদের কথায় রক্ত ঝরার মত করে কথাও ঝরে।
আমরা আমজনতা সকল সময়ই আম। আগের রাজাদের ক্ষেত্রেও ইতিহাসে লেখা আছে সেসব বা রাজাদের বাড়িতে গেলে আম দরবারের জন্য আলাদা যায়গা দেখলেও বোঝা যায়। আমাদের দেশেও একই অবস্থা। সকল অবস্থায় আইন আছে তবে তা কেবল মানা লাগে আমাদের আম/সাধারন মানুষের। আমাদের জন্য ডান্ডাবেড়ী সব সময় তৈরি থাকে। কিন্তু যাদের ছো্য়া দরকার তাদের ছোয় না।
সাভার যায়গাটার সাথে অনেকভাবে জড়িত। প্রায় আটবছর এই এলাকার উপর দিয়ে আসা যাওয়া করেছি। আর দেশব্যাপি যেই যায়গা নিয়ে কথা চলছে তার ডোবায় জমতে দেখছি ময়লার পাহাড়। আরা তারপর গজিয়ে ওঠা সেই রানা প্লাজা। ভালই লাগছিল সাভারের উন্নতি দেখে। আস্তে আস্তে সাভারে আরো কিছু শপিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। শহর তলি থেকে প্রায় উপ শহর হয়ে উঠেছে এখন সাভার।
আর সেই গজিয়ে উঠা রানা প্লাজা নিয়ে নিলো ৪ শতাধিক প্রান। তার পর যথা নিয়মে শুরু আমাদের রাজনীতির পথ চলা। কেউবা সরকার ফেলেছে আবার কেউ বলতে থাকেন বিরোধী দলের ঝাকিতে পড়েছে। কিন্তু তার মাঝেও সাধারন মানুষ উঠে এসেছে রাজনীতি উর্ধে। নিজের প্রান বাজী রেখে বাচাতে লাগলেন তারা একের পর এক প্রান। এভাবে প্রায় ২৪০০ এর অধিক প্রান আবার ফিরে আসে ধরনীর ছায়ানীড়ে।
ডাক্তার এনাম তাদের মাঝে একজন যিনি পেশকে নিয়েগেছেন সত্যিকার মানবতার জন্য। তা খুব কম ডাক্তার ই করেন। তার মাঝে প্রাইভেট হাস্পাতাল ভিতি আমাদের সবার আছে। তারা পেশাকে যেখানে নিয়ে পৌছেছেন ডাকাতির পর্যায়ে তার থেকে মুক্তি দিলেন। বিনা খরচে নিজেদের ফান্ড থেকে খরচ শুরুর মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়েছেন আহতদের। ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছেন প্রান বাচাতে। আমার শ্রদ্ধা আপনাদের।
সাভারের চারটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা যারা মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন তারা সবাই আমাদের নষ্ট রাজনীতির বলি ছাড়া কি অন্য কিছু?
এর মাঝেও আমাদের নষ্ট রাজনৈতিক নেতারা ভোটের ব্যাঙ্ক খুজছেন। তবে স্বাভাবিকই মনে হয় আমার এসব কিছু। রাজনীতির মার প্যাচেইতো মরল এই লোকগুলো। শাহীনাকে উদ্ধার করতে পারেনাই তাই আবুলখায়ের বা এজাজ কাদেন। কিন্তু নেতারা ভাবেননা সেসব কিছুই। দেড়বছরের বাচ্চাটা আর মাকে পাবে না বাবাতো পরপারে গেছেন বছর পেরিয়ে গেল। আশ্চর্যান্বিত হই যখন দেখি কেউ কেউ সাহায্য ঘোষনা করেন মোবাইল অপারেটরদের শেখানো পদ্ধতিতে। নিচে স্টার দিয়ে শর্তপ্রযো্য্য এর মত করে। শর্তটা হল তাদের ক্ষমতার নরম গদিতে বসাতে হবে।
আর কতকাল এমন চেয়ে দেখবো আমরা! আর পিঠইবা কত দিন পেতে দেব ভোট ভিক্ষুকদের জন্য???
সাভারের চারটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা যারা মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন তারা সবাই আমাদের নষ্ট রাজনীতির বলি ছাড়া কি অন্য কিছু?
এর মাঝেও আমাদের নষ্ট রাজনৈতিক নেতারা ভোটের ব্যাঙ্ক খুজছেন। তবে স্বাভাবিকই মনে হয় আমার এসব কিছু। রাজনীতির মার প্যাচেইতো মরল এই লোকগুলো। শাহীনাকে উদ্ধার করতে পারেনাই তাই আবুলখায়ের বা এজাজ কাদেন। কিন্তু নেতারা ভাবেননা সেসব কিছুই। দেড়বছরের বাচ্চাটা আর মাকে পাবে না বাবাতো পরপারে গেছেন বছর পেরিয়ে গেল। আশ্চর্যান্বিত হই যখন দেখি কেউ কেউ সাহায্য ঘোষনা করেন মোবাইল অপারেটরদের শেখানো পদ্ধতিতে। নিচে স্টার দিয়ে শর্তপ্রযো্য্য এর মত করে। শর্তটা হল তাদের ক্ষমতার নরম গদিতে বসাতে হবে।
আর কতকাল এমন চেয়ে দেখবো আমরা! আর পিঠইবা কত দিন পেতে দেব ভোট ভিক্ষুকদের জন্য???
2 comments:
রানা প্লাজার ঘটনা ঘটার পরপরই কেউ কেউ অনুরোধ করেছিলেন যে এখানে যেন কোন রাজনীতি না আসে। আমি অবশ্য মনে করি কিছুটা অন্যরকম। রাজনীতির কারনেই যেখানে রানা প্লাজার ঘটনার সূত্রপাত, সেখানে রাজনীতিকে বাইরে রাখাটা কঠিন। এদেশে ব্যাবসা চালাচ্ছে রাজনীতি, আর বিনিময়ে রাজনীতি চালাচ্ছে ব্যাবসা। স্পেক্ট্রাম, তাজরিন বা রানা প্লাজার মত ঘটনায় দায়ী ব্যাক্তিদের সাজা দেবার মত আইন-ই তো এদেশে নেই। আর দেশের রাজনীতিকেরা সেই আইন সংশোধন করার মত সৎসাহস রাখেন বলেও আমার মনে হয় না। যেখানে টাকার শক্তিই বড় শক্তি, সেখানে আইনও চলবে টাকার অঙ্কে।
এদেশে আরও বহু রানা প্লাজা-তাজরিন-স্পেক্ট্রাম রয়েছে। রয়েছে সোহেল রানা-মুরাদ জং-এর মত অনেক কাহিনী। বড় কোন ঘটনা না ঘটলে তো আমরা সেগুলা জানতে পারি না। আমরা দেখে যাবো; সহ্য করে যাবো। এই স্বার্থপর জাতির কাছ থেকে এই মুহূর্তে এর চাইতে বেশী কিছু আশা করতে পারছিনা। যদিও শাহবাগের ছটা কিছুটা হলেও লেগেছে মানুষের মনে, সেটা সত্যিকারের দাগ ফেলতে আরও সময় লাগবে বলেই আপাতত মনে হয়।
আমাদের সব কিছুই রাজনীতি তাড়িত। বাজার থেকে শুরু করে পথঘাট, সংসদ থেকে শুরু করে প্রার্থনালয়। সকল কিছুর উর্ধে অবস্থান করে রাজনীতি। তাই রাজনীতির বাহিরে কি কিছু রাখা সম্ভব??
Post a Comment