April 28, 2012

পুর্বের কিছু ছবি ফেরত চাই!

পত্রিকায় আগে খবর আসত ক দলের ছাত্রনামী মাস্তান দ্বারা খ দলের ছাত্র লাঞ্চিত। কিন্তু কদিন আগে খবর দেখে চক্ষু চড়কগাছ না হলেও কিছুটা উপরে উঠে আবার নেমে আসল। মনে মনে ভাবলাম এমনইতো হবার কথা ছিল। কিন্তু এটাকে মনে হলো প্রবোধ দেয়া ছাড়া আর কিছু নয় ।

ছবিঃ সংগৃহীত

ক্যাম্পাস স্থায়ীভাবে ছেড়েছি সেই ২০০৮ সালে। তথাপি একটু ছুটি পেলেই দে ছুট! তাছাড়া এমন অনেক দিন গেছে ভোর ৬ টার দিকে গিয়ে পাখি দেখে আবার ৮ টার মাঝে ফিরে এসে অফিস ধরেছি। এটা নেশার মত হয়ে গেছিল। এখন সময়ের অভাবে যাওয়া কমে গেছে। ঢাকার বন্ধুরা মাঝে মাঝে বলত তোরা কি পাস ক্যাম্পাসে? মুচকি হাসি দেই তা থেকে কি বোঝে জানি না, চুপ করে যায়।

ইদানিং ক্যাম্পাসে গিয়ে আগের অনেক জিনিস খুজে পাই না। প্রান্তিক যাওয়ার সময় কিছু ফুল দেখা যেত, যা এখন আর নাই! জঙ্গল পরিস্কার করা হয়েছে! সাপ, খোপের বাসা হয়েছিল তাই পরিস্কার রাখা হচ্ছে। জাহানারা ইমাম হল হতে ডেইরীগেট পর্যন্ত রাস্তার মাঝের কাঠাল বাগানে ঘাস নেই আর। উন্নত মাটি তাই হলুদ চাষ করা হয়েছে। শীতকাল গেল পাখির কলকাকলী শোনাগেলনা ক্যাম্পসের লেকে। কারন লেক পরিষ্কার করে এখন মাছ চাষ করা হচ্ছে। টাকাতো আসছে! পাখি থেকে তো কোন লাভ আসে না! বরং ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে! তাই নয় কি! কৃষ্ণচূড়া গাছথেকে কাঠ হয়না তাই কেটে ফেলা উচিত! আমার ক্যাম্পাস কোন ব্যাবসা ক্ষেত্র নয় যে ক্যাম্পাসের যায়গা বা লেক লিজ দিতে হবে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রলীগের শরীফ, শাকিল, সম্রাটের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন নেতা-কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কলি মাহমুদকে মারধর করে। এ সময় কাছেই অবস্থন করছিলেন সহকারী প্রক্টর সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু। এরপর ছাত্রলীগ কর্মীরা রড, পাইপ, হকিস্টিক ও লাঠি নিয়ে টিএসসি এলাকায় নাটকের মহড়ারত সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সাংস্কৃতিক রাজধানীতে সংস্কৃতির চর্চা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। কিছু ক্ষেত্রে নিশেধাজ্ঞা, কিছু ক্ষেত্রে অনুদান না পাওয়া বা কখনো কখনো চর্চাস্থান না পাওয়া এই রাজধাণীর বুকে শেষ পেরেক ঠোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু তারা সফলকাম হবে কি?? 

ছোটবেলা থেকে যখন পড়তে শিখেছি তখন শোনা যেত শিক্ষক হলেণ পিতার মত। কিন্তু আসলে কি তাই?? যখন দেখবেন আপনি ক্লাসের জন্য অপেক্ষারত অথচ আপনার শিক্ষক রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে ব্যাস্ত ক্লাস নেয়ার সময় নাই, বা তিনি অন্য শিক্ষকের গায়ে হাত তুলে পুলিসের দাবড়ানিখাচ্ছে অথবা যখন তিনি এই তাদের সামান্য রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য বা কাউকে রক্ষা করতে বা কাউকে মারতে ব্যাস্ত তখন কি বলবেন তিনি পিতার সমতুল্য অভিবাবক? 

তাছাড়া  সংবাদপত্রে যখন সংবাদ হচ্ছে আমাদের এই ক্যাম্পাস খারাপ লাগে না! কিন্তু সেই খবর যখন খারাপ হয় তখন?? যখন দেখি দুজন শিক্ষক মিলে আরেকজন শিক্ষকের গায়ে হাত তুলছে। আর তার জেরধরে দুজনকে হাজতঘরে চোরদের সাথে রাতকাটাতে হচ্ছে!  আমি নই শুধু! বাকি সবারই খারাপ লাগে। কেউ বলতে পারবে না যে তার ভাল লাগে। 

গত ৯ জানুয়ারি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ ছাত্রলীগের হাতে খুন হওয়ার পর থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একপ্রকার অচল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। তারপর শিক্ষক সমিতির দুপক্ষ মারামারি করে ক্লাস বর্জন চলছে প্রায় দুমাস যাবত। এ দুমাসের জের দিতে হবে প্রত্যক ছাত্রকে ছমাস (নিদেনপক্ষে) জ্যামের মাধ্যমে। 

আমি বা আমরা কেউই ক্যাম্পাসে শুনতে চাইনা গুলির আওয়াজ। আমরা চাইনা দেখতে কারো রক্তাক্ত ছবি! আমরা পড়তে চাইনা আমার কোন ছোট ভাইএর মৃত্যুর খবর। আমি আবার ক্যাম্পসে শুনতে চাই পাখির গান। দেখতে চাই দুটো টিয়া ঘর বেধেছে শিরিসের ডালে বা কিছু হট্টিটি চড়ে বেড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু হল মাঠে, দুটো শিয়াল বসে রোদ পোহাচ্ছে বোটানিকাল গার্ডেনের গেটের পাসে। বা কিছু দাড়াস সাপ বেজীর সাথে যুদ্ধ করছে। শুনতে চাই প্রজাপতি মেলা বা পাখি মেলা হচ্ছে ক্যাম্পাসে। কালিকলম পুরস্কার পাচ্ছে ক্যাম্পাসের নতুন কোন সাহিত্যিক। 


1 comment:

Ahmed Sharif said...

asha amader bachiye rakhe... amra ejonnoi ashay buk badhi... kintu asha korlei to shudhu hobe na... asha-ke bastobe rup dite sobar-i dayitto ache... amra jatigoto-bhabe dayittosheel noi... boshe thaki... mone mone bhabi keu ekjon ota korbei... kintu ekta kotha ache na, "everybody's work is nobody's work"...

amra sobai politically polarised... etotai polarised je nyay-neeti ekkebarei bhule jai... desher upore dhore rakhi nijeder political affilication-ke... tar-o upore dhore rakhi nijeke... eirokom-bhabe jotodin amra priority set korbo totodin apnar moto erokom osru-jhora lekha amader porte hobe...

ta-o... oi je bollam prothome... asha... asha niye ghor kori; ashay pocket bhori...

নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...