January 18, 2015

নগর না দেবালয় ২



আবার সেই কফির কাপের গল্পে আসি। তারা এখনো সবাই কফির কাপে ঝড় তুলেই যাচ্ছেন। কেউ বা সুশীল সেজে সামাজিক মিডিয়ায় স্ট্যাটাস ভারী করছেন। আবার কেউবা কাউকে উস্কানি মূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তাতে কি লাভ হচ্ছে? যদি লাভ হতো তবে রতন মিয়াঁর চিৎকার আপনার কানে বাজত "ভাই আগায় আসেন ভাই, আগুন নিভান ভাই, কিস্তিতে কেনা ট্রাক, কষ্টে কেনা ট্রাক ভাই, এই ট্রাক পুড়ে গেলে পথে বসতে হবে ভাই"। এটাই বাস্তবতা। বলবেন হয়তো কেন রতন মিয়া বের হচ্ছে রাস্তায় ট্রাক নিয়ে! আপনি বা আমার মত দল্ভক্ত ভানকারীরা বলতেই পারি এসব। লোকটার পেট বা তার পরিবারের সদস্যদের পেটতো সব শুনবে না!


গতকাল কিছু শিক্ষিত (কাগজে কলমে) লোকের সাথে একবেলা আহারের সুযোগ হয়েছে। এখানে দেখলাম তারা এই পুড়িয়ে মারা আন্দোলনকে খুব সমর্থন দিচ্ছেন। বসে শুনছিলাম, অনেকসময় যাবত। কিন্তু শেষপর্যন্ত নিজেকে সামলাতে পারিনি। জিজ্ঞাসা ছিল আপনি ক্ষমতায় যাবার জন্য আম জনতা পুড়াচ্ছেন কেন? আপনার পরিবারের কেউ কি আজ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে? তারা কিছু বললেন না বা একজন আরেকজনের মুখচাওয়াচাওয়ি করছিলেন। আর আমায় সরকারপক্ষ বানিয়ে তুলোধুনোর চেষ্টাও করলেন। একজন শিক্ষিত লোক কি করে এই বর্বরতাকে সমর্থন করেন?


আজ দেখলাম পুলিশের গাড়িতে পেট্রোলবোমায় আমার এলাকার এক কনস্টেবল মারাগেছেন। আমরা একই গ্রামের নই কিন্তু একই ইউনিয়নের। দেখে আমার সকাল থেকে মন খারাপ লাগল। কনস্টেবলের উর্দিটা খুললেই তো সে আর পুলিশ না। সে আমার আপনার মত মানুষ।

আজ দেখলাম একজন তার লেখায় লিখেছেন "দেশকে স্বাধীন করছেন তাঁরা। এই আন্দোলন স্বাধীনতার আন্দোলন।" কিন্তু কার কাছ থেকে? তাদের সাথে আছে স্বাধীনতা বিরুদ্ধ শক্তি। আর তাদের দিয়েই তাঁরা দেশ স্বাধীন করছেন! আমাদের এই দুষ্ট রাজনৈতিক দেবতাদের কবলথেকে মুক্তিপাব আমরা কবে?

No comments:

নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...