April 26, 2013

গণতান্ত্রিক হিজিবিজি -২

সব ডামাঢোল চাপা পড়ে গেছে  পচন ধরা ইট আর পাথরের নিচে। গত চারদিন যাবত চাপা পড়েও মাঝে মাঝে উঠতে চাচ্ছে। আবার যুদ্ধ শুরু হয়ে হয়ে হয় না। একটা গ্রুপ ফেসবুকে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কথার যুদ্ধ। তারা ভাল বলতে পারেন, তাদের কথায় রক্ত ঝরার মত করে কথাও ঝরে। 

আমরা আমজনতা সকল সময়ই আম। আগের রাজাদের ক্ষেত্রেও ইতিহাসে লেখা আছে সেসব বা রাজাদের বাড়িতে গেলে আম দরবারের জন্য আলাদা যায়গা দেখলেও বোঝা যায়। আমাদের দেশেও একই অবস্থা। সকল অবস্থায় আইন আছে তবে তা কেবল মানা লাগে আমাদের আম/সাধারন মানুষের। আমাদের জন্য ডান্ডাবেড়ী সব সময় তৈরি থাকে। কিন্তু যাদের ছো্য়া দরকার তাদের ছোয় না। 

সাভার যায়গাটার সাথে অনেকভাবে জড়িত। প্রায় আটবছর এই এলাকার উপর দিয়ে আসা যাওয়া করেছি। আর দেশব্যাপি যেই যায়গা নিয়ে কথা চলছে তার ডোবায় জমতে দেখছি ময়লার পাহাড়। আরা তারপর গজিয়ে ওঠা সেই রানা প্লাজা। ভালই লাগছিল সাভারের উন্নতি দেখে। আস্তে আস্তে সাভারে আরো কিছু শপিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। শহর তলি থেকে প্রায় উপ শহর হয়ে উঠেছে এখন সাভার। 

আর সেই গজিয়ে উঠা রানা প্লাজা নিয়ে নিলো ৪ শতাধিক প্রান। তার পর যথা নিয়মে শুরু আমাদের রাজনীতির পথ চলা। কেউবা সরকার ফেলেছে আবার কেউ বলতে থাকেন বিরোধী দলের ঝাকিতে পড়েছে। কিন্তু তার মাঝেও সাধারন মানুষ উঠে এসেছে রাজনীতি উর্ধে। নিজের প্রান বাজী রেখে বাচাতে লাগলেন তারা একের পর এক প্রান। এভাবে প্রায় ২৪০০ এর অধিক প্রান আবার ফিরে আসে ধরনীর ছায়ানীড়ে। 

ডাক্তার এনাম তাদের মাঝে একজন যিনি পেশকে নিয়েগেছেন সত্যিকার মানবতার জন্য। তা খুব কম ডাক্তার ই করেন। তার মাঝে প্রাইভেট হাস্পাতাল ভিতি আমাদের সবার আছে। তারা পেশাকে যেখানে নিয়ে পৌছেছেন ডাকাতির পর্যায়ে তার থেকে মুক্তি দিলেন। বিনা খরচে নিজেদের ফান্ড থেকে খরচ শুরুর মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়েছেন আহতদের। ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছেন প্রান বাচাতে। আমার শ্রদ্ধা আপনাদের।

সাভারের চারটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা যারা মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন তারা সবাই আমাদের নষ্ট রাজনীতির বলি ছাড়া কি অন্য কিছু?

এর মাঝেও আমাদের নষ্ট রাজনৈতিক নেতারা ভোটের ব্যাঙ্ক খুজছেন। তবে স্বাভাবিকই মনে হয় আমার এসব কিছু। রাজনীতির মার প্যাচেইতো মরল এই লোকগুলো। শাহীনাকে উদ্ধার করতে পারেনাই তাই আবুলখায়ের বা এজাজ কাদেন। কিন্তু নেতারা ভাবেননা সেসব কিছুই। দেড়বছরের বাচ্চাটা আর মাকে পাবে না বাবাতো পরপারে গেছেন বছর পেরিয়ে গেল। আশ্চর্যান্বিত হই যখন দেখি কেউ কেউ সাহায্য ঘোষনা করেন মোবাইল অপারেটরদের শেখানো পদ্ধতিতে। নিচে স্টার দিয়ে শর্তপ্রযো্য্য এর মত করে। শর্তটা হল তাদের ক্ষমতার নরম গদিতে বসাতে হবে।

আর কতকাল এমন চেয়ে দেখবো আমরা! আর পিঠইবা কত দিন পেতে দেব ভোট ভিক্ষুকদের জন্য??? 

April 10, 2013

গনতান্ত্রিক হিজিবিজি ১


কিছুদিন গনতন্ত্রের(তবে আমারা জানা নাই এটা গনতন্ত্র না অন্য কিছু) জন্য যেই তান্ডব চলছে তা কত দিন চলবে সেটা স্রষ্টা ভাল জানেন। কারো কারো মতে ১০০ কারো মতে ১৭০ কিংবা কারো মতে তারো বেশী লোক মৃত্যুবরন করেছেন। কিন্তু কেন? 

সবার আগে ভোট, তারপর ভোট এবং তার পরও ভোট। তার পর জনগন এর যদি কোন দাবি দাওয়া থাকে তা আসতে পারে। তবে বেশীর ভাগ সময় আসে না। আমরা বাংলাদেশীরা খুব মনে করি হরতাল আমাদের মৌলিক গনতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু হরতাল এর মাধ্যমে কোন দাবি সুষ্ঠভাবে আদায় হয় বলে আমি মনে করিনা। ১৯৪৭-১৯৭১ সময়ে যে হরতাল ছিল সর্বসম্মতির বর্তমানে কি তা প্রতিফলিত হচ্ছে? আমরা ভয়ে বের হচ্ছিনা বাড়ি থেকে তার মানে কি হরতাল সফল?

ভারতবর্ষে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ইতিহাস বহু পূর্ব থেকে। বারবার এখানে আক্রমন হয়েছে ধর্মীয় কারনে। ইংরেজ আমাদের ২০০ বছর শাসন করেছে এই ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমেই। তারা তাদের ধর্ম প্রচার করেছে। তাছাড়াও মুসলিম হিন্দু এই দু ভাগের কারনে আরো বিভিন ফায়দা লুটেছে তারা। আমরা কি পেয়েছি তা থেকে? শুধু পিছিয়ে পড়া ছাড়া। তারা শেষ কাজটা করে গেল ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারত বিভাজনের মাধ্যমে। মাঝখানে পড়ে আমরা চিড়েচ্যপ্টা।

স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষ যখল লড়ছিল তখনো চলছিল অপপ্রচার। তাও ধর্মীয় ভিত্তিতে। এইদেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ যেখানে মুসলিম সেখানে হিন্দুত্তের ধোয়া তুলে বারবার অত্যাচারের স্বীকার হতে হল। আবার ৪২ বছর পর একই ধোয়াশা আমাদের পিছুনিল। সেই একই গোষ্ঠী। ধর্মীয় মৌলবাদ, নাস্তিকতাবাদ, আর ব্লগার এই তিনটি জিনিষ জুজু বুড়ীর মত চেপে বসলো আমাদের ঘাড়ে। আমাদের একটা গ্রুপ ধর্ম আর ব্লগ/ফোরামকে মিলিয়ে ফেললেন একসাথে। কোনটি কি তা না জেনেই। রাজনৈতিক দলগুলো ও ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে দৌড়ঝাপ শুরু করল। কিন্তু ফল হল কি?

পুজিঠিকই ৭১ এর দোশরদের রয়ে গেল। তাদের বিচার ধামা চাপা পড়ার পর্যায়ে চলে গেল। বর্তমান সরকারকে ম্যান্ডেট দেয়া হয় এই বিচারের জন্যই। যেহেতু বিরোধী দলের সাথেই রয়েছে এই ধর্ম ব্যবসায়ী গ্রুপ তাই তাদের বাচাতে বিরোধী দলও শুরু করল দৌড়ঝাপ। মাঝখানে কিছু ছেলেমেয়ে যারা প্রগতিশীল তারা আন্দোলন করতে গিয়ে নাস্তিকতার বিষ বোঝা মাথায় নিতে হল।  আমরা ধর্মীয় দিকে দুর্বল। কিন্তু তাই বলে এ নিয়ে ভাববনা তাকি ঠিক। শাহবাগ এ বসে গান গাইলাম আর ব্লগিং করলাম তাতে কি সকলেই জানবে যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যে!

রাজনৈতিক বিষবাস্প ছড়াচ্ছিল কিছু পত্রিকা আর এক বা দুটি টেলিভিশন চ্যানেল। কিন্তু সরকার ও চুপচাপ। আসলেই কি চুপচাপ? তারা অলৌকিক কিছু স্ট্যান্টবাজী করছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলছেন না গুটি কয়েক তরুন বাদে।

মূল আন্দোলন এখন হারানোর পথে। এখন চলছে আবার নতুন আন্দোলন। নাস্তিকতামুক্তির আন্দোলন। প্রায় ৮৫ ভাগ মুসলিমের দেশে আজ ইসলাম হেফাজতের নামে চলছে আন্দোলন। যদিও এখনো সময় আসেনি এ বিষয়ে মন্তব্য করার।

নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...