February 15, 2015

তেলের দামে তেল দেয়া... ...

আগে বাংলা সিনেমার মাতুব্বরদের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যখন দ্বন্দ্ব দেখা দিত তখন বলতে শোনা যেত যে তুই ঐ কাজ কর যত টাকা লাগে তা আমার। ড্যেইলি স্টার প্রত্রিকার খবর দেখে আমার এটাই মনে পড়েগেল। ঠিক তেমন শুরু করলেন মনে হয় আমাদের বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এর লোকজন।  তাদের ক্রয় কমিটি অপরিশোধিত জ্বালানী তেল কিনছে বিশ্ববাজার অপেক্ষা দ্বিগুণের চেয়ে প্রায় ১০ মার্কিন ডলার বেশী দামে। 

বিশ্ববাজারে যেখানে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে ৫০ মার্কিন ডলারের নিচে চলে এসেছিল তখন তাঁরা কি ঘুমাচ্ছিলেন, না সরকার কি মাল দরিয়া মে ঢাল প্রবাদ মানছেন। বিশ্ব জ্বালানী বাজারে মূল্য বিবেচনায় যেখানে গত ৬ বছরের মাঝে সবচাইতে কম মূল্যে যখন বিশ্ববাসী জ্বালানী কিনছি সেখানে এই সময়েও বিপিসি জ্বালানী মূল্য কমায় নাই, এতে যে কেউ ভাবতে পারেন তাঁরা সরকারের ভূর্তকী সমন্বয়ের ব্যবস্থা করছে। কিন্তু তাদের মূল্য সমন্বয় না করে মন্দার বাজারে সর্বোচ্চ মূল্যে কিনতে চাওয়াকে কি বলা যায়? দরপত্রের সময় বিশ্ববাজারে দাম ছিল ৮৬ আর আজ যখন এটা অনুমোদিত হয় তখন এর দাম ৫২ হতে ৫৬ ডলার। 

আমি অনেক সময় যাবত এর অর্থনৈতিক ব্যখ্যা খোজার চেষ্টা করলাম কিন্তু বাস্তব সম্মত কোন কিছু খুঁজে পেলাম না। হয়তবা আমার অর্থনীতি সম্পর্কে  অজ্ঞতাই এর কারন হবে। যদিও বিপিসির প্রধান নির্বাহীও কেন এই মূল্য সম্পর্কে কোন ব্যাখ্য দিতে পারেন নাই! 

আর আজকের ইউএস টুডে এর ও হিউস্টন ক্রনিক্যাল এর মতে গত দুই মাস যাবত অপরিশোধিত তেলের বাজারে চলতে থাকা মন্দার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তেল উত্তলন ও নতুন অনুসন্ধানের কাজ। আর এর ফলাফল হিসেবে সামনে বেড়েযাবে অপরিশোধীত তেলের মূল্য যা পূর্বের মূল্যের অর্থাৎ ১২০ হতে ১৩০ এর উপর চলে যাবে। তখন এই তেল বাংলাদেশের সরকারের কেনা সম্ভব হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব কি পড়বে তা কি বিপিসির কর্মকর্তারা ভেবে দেখেছেন?

বর্তমানের বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থবিরতার ফলে এমনিতেই সাধারণ জনসাধারণের মাঝে চাপা দীর্ঘশ্বাসের মত আটকে আছে আর এই উচ্চ মূল্যে ক্রয় করা তেলের দরুন যে মূল্যস্ফীতি হবে তা তে দীর্ঘশ্বাসটা দমবন্ধ করার অবস্থায় পৌঁছে দিবে।

Ref : http://www.thedailystar.net/govt-okays-oil-purchase-at-higher-than-global-prices-64357


February 11, 2015

নগর না দেবালয় ৫

বউ আমারে ফেসবুকে একটা ভিডিও শেয়ার করেছে। আমি লিঙ্কটা খুলে ভিডিও দেখা শুরুর সাথে সাথে শুরু হল তার কমেন্ট্রী। মাঝখান থেকে আমার ভিডিও বা বউ এর কথা কিছুই শোনা বা বোঝা হল না। 

দেশের অবস্থাও ঠিক এমন। সবাই বলছে। সবাই করছে। কিন্তু কোনটা শোনা দরকার তা কেউ ঠিক করতে পারছে না। কারন তারা (আম) জনতা। দেশটার মালিক তাঁরাই। কিন্তু সেটা মনে পড়ে প্রতি ৫ বছর পর পর। কারন তাঁরা ভোটের মালিক। আর ভোট দেয়ার পর পাঁচ বছরের জন্য মালিককে শীতনিদ্রায় পাঠানো হয়। মাঝে মাঝে হঠাত যখন আবার দরকার হয় তাকে ডেকে তোলা হয়, পুড়ে মরার জন্য বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের বাহিরে দেহে আরও এক বা একাধিক ছিদ্র উপহার দেয়ার জন্য। 

সমস্যা তবু সমাধান হয় না। তখনো খেলা চলতে থাকে, তাকে ভাগা ভাগি করার জন্য। ছোটবেলায় খেলতে যাওয়া ছোটছেলেটির ভাগ্যে যেই দুধভাত পদটি জোটে তাও পায় না তাঁরা। তবে দু দলের মাঝে সে পড়েই থাকে। তাকে টেনে  তুলার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। যেই এগিয়ে আসার কথা সেও আসতে আসতে কোন এক শিবিরে ঢুকে পড়ে, যে তকমাই লাগানো থাক তার গায়ে। সুশীল বা অন্য কিছু! 




February 02, 2015

নগর না দেবালয় ৪

এই করেছো ভাল নিঠুর হে 
এই করেছো ভাল
এমনি করে হৃদয়ে মোর 
তীব্র দহন জ্বাল... ... 


একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী। গুটি কতক চালাক লোকের পাল্লায় পড়ে ধ্বংসের মুখে। দেশের প্রধান দুটি টিমের হয়ে খেলে এই চালাক লোক গুলো। ইচ্ছে হলে কাবাব আবার কেউবা শিকার ধরে। কিন্তু সেই জনগোষ্ঠীর কপালের লেখন আর পরিবর্তিত হয় না। আবার মাঝে মাঝে দেশটা দান ও হয়ে যায়। কিন্তু মালিক যারা তাদের পোঁছে কজন। তবে কাবাবের চেহারাটা খারাপ হয় না। পরিমাণটাও নেহাতি কম না। তাতেও মন ভরেনা তাদের। হাড্ডি থাকলে কি কাবাবের মজা আছে?

শিকারির হাতের বন্দুকটাও মাঝে মাঝে ভুলে যায় কে তার মালিক। বা কার টাকায় কেনা। সে শুধু শিকার চেনে। কিন্তু শিকার হিসেবে যে মাঝে মাঝে মালিককেই ধরাশায়ী করেফেলে তা সে চেনে না। চিনবে কি করে? সে তো জানতে বা শুনতে পায় না কার টাকায় তাকে কেনা হয়েছে বা কেন এসেছে শিকারির হাতে!

পোড়াতে যে পেট্রোল লাগছে তা কেনার পেছনেও যে পুড়েযাওয়া মানুষটার অবদান আছে সেটা সে জানতে পারেনা। শুধু সে একটা সংখ্যা হিসেবে স্থান পায় পত্রিকার পাতায়।  আর তাকে নিয়ে কিঞ্চিত কান্না চলে। দু শিবিরেই দাবী উঠে সে তাদের। এমন কি তখন সে নিজের মালিকানাটাও দাবী করতে পারেনা। পুড়ে যাওয়া মাংসের আস্বাদ নিতে চায় সবাই।

কিন্তু সংখ্যাটা বেড়েই চলে। প্রতিদিন...  সকাল, সন্ধ্যা, রাত... সময় মানে না। পোড়া মাংসের আস্বাদ একবার পেলে তার কি অন্যকিছু ভাল লাগে? আমরা চালাক হবার চেষ্টা করি। আমারা সেই বড় জনগোষ্ঠী  নিজেরাই নিজেদের ঐ দলগুলির তাঁবেদারিতে লাগাই। 
এমনি করে হৃদয়ে মোর 
তীব্র দহন জ্বাল... ...





নতুন ইউনিফর্ম, পুরোনো সমস্যা: বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রং বদলের রহস্য

২০২৫ সালের শেষভাগে বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পেলেন এক নতুন চেহারা। দীর্ঘদিনের চেনা নীল-সবুজ পোশাক সরিয়ে তাঁদের গায়ে ...